
শ্রমিকরা তাদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে। আর বিনলাদিন কোম্পানীর পক্ষ থেকে শ্রমিকদের বলা হয়েছে, হয় তারা দ্রুত দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে অথবা যতদিন পর্যন্ত বকেয়া বেতন পরিশোধ না করা যাচ্ছে ততদিন অপেক্ষা করতে হবে।
হঠাৎ করেই ৫০ হা্জার প্রবাসী শ্রমিককে ছাঁটাই এবং পাওনা বেতন না দিয়েই দেশে ফিরে যাওয়ার পথ দেখানোতে বিনলাদিন কোম্পানী এবং শ্রমিকদের মধ্যে বর্তমান সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকরা নিয়মিত জেদ্দার আল-সালামা জেলায় কোম্পানীটির প্রশাসনিক অফিসের সামনে অবস্থা নিচ্ছে।
আল-ওয়াতানকে একটি সূত্র জানিয়েছে যে, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে যাদের প্রায় ৬ মাসের বেতমন বাঁকি। এ কারণে তাদের ঋণ নিয়ে মাসের পর মাস বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ চালাতে হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র বলছে, বিনলাদিন কোম্পানী আগামী সপ্তাহে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা ঘোষণা দিয়েছে। শুধু জেদ্দা নয়, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকরা সৌদি বিভিন্ন জেলায় ঐ কোম্পানীর প্রশাসনিক অফিসের সামনে প্রায় প্রতিদিনই অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে। দেশত্যাগের আগেই শ্রমিকরা তাদের পাওনা বুঝে নিতে চায়। শ্রমিকদের সকল পাওয়া দিতে গেলে কোম্পানীটির ১০ মিলিয়ন সৌদি রিয়ালেরও বেশি লাগবে। বিনলাদিন কোম্পানী অবশ্য ১৫ হাজার প্রবাসী শ্রমিক, সৌদি শ্রমিক এবং ইঞ্জিনিয়ারদের ১ মাসের বেতন পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু অনেক শ্রমিকই এটাতে সন্তুষ্ট না। তাদের মতে, এটা সমস্যার একটা সাময়িক সমাধান।
এদিকে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে কোন বাংলাদেশী আছে কি না-এ খবর নিতে গেলে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে জানানো হয়েছে, বিনলাদিন কোম্পানী মূলত: নির্মাণ কাজের সাথে সম্পৃক্ত। কোম্পানীর যেসব বিভাগ থেকে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে সেগুলোতে খুব বেশি সংখ্যায় বাংলাদেশীরা কাজ করে না।
বিনলাদিন কোম্পানীতে মূলত: মিশর এবং পাকিস্তানের মানুষ বেশি করে বলে জানা গেছে।
সূত্র: সৌদি গেজেট।