The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

সরাইলে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার: ছেলে না মেয়ে, পরিচয় মেলেনি

একটি সন্তান পৃথিবীতে আসবে, এই অপেক্ষায় কত মায়ের চোখে ঘুম থাকে না। অনাগত শিশুর জন্য কত বাবা-মা মাসের পর মাস প্রস্তুতি নেন, কত কষ্ট সহ্য করেন, চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করেন জীবনের সঞ্চয়। আবার এমনও অনেক মা-বাবা আছেন, যারা বছরের পর বছর সন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় থাকেন। সন্তানহীনতার সেই শূন্যতা কতটা কষ্টের, তা যার ঘরে সন্তান নেই, তিনিই সবচেয়ে ভালো বোঝেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঝোপঝাড় থেকে আনুমানিক একদিন বয়সী এক নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটির শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ কুকুরে খেয়ে ফেলেছে। পঁচন ধরে যাওয়ায় শিশুটি ছেলে না মেয়ে, সেটিও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত নবজাতকের পরিচয়ও শনাক্ত করা যায়নি।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। বর্তমানে মরদেহটি ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর হেফাজতে রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের চুন্টা বাজার এলাকায় একটি সেলুনের সামনে ঝোপঝাড়ে নবজাতকের মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝোপঝাড়ের মধ্যে নবজাতকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে চুন্টা বাজারের পার্থ মন্ডলের সেলুনের সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল শেষে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে নবজাতকের মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এদিকে নবজাতকের এমন করুণ পরিণতিতে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কে বা কারা নবজাতকটিকে সেখানে ফেলে গেছে, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর পর মরদেহটি সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে কি না, এসব বিষয় নিয়ে চলছে আলোচনা।
স্থানীয়রা বলছেন, শিশুটির জন্মের পেছনে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ছিল কি না, সামাজিক লোকলজ্জার কারণে তাকে পরিত্যাগ করা হয়েছে কি না, কিংবা পারিবারিক বিরোধ বা শত্রুতার কোনো ঘটনা এর সঙ্গে জড়িত কি না, তাও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তবে তদন্তের আগে এসব বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তাদের দাবি, নবজাতকটির পরিচয় ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত শনাক্ত করে এর পেছনে কোনো অপরাধ বা রহস্য থাকলে তা উদঘাটন করা হোক।
দিন দিন শিশু পরিত্যাগ, নির্যাতন ও হত্যার মতো নানা অপরাধের খবর সামনে আসছে। এসব ঘটনা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নবজাতকের মরদেহ পচে যাওয়ায় পরিচয় বা ঠিকানা জানা যায়নি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে। পরিচয় শনাক্তে জেলা পুলিশ ও ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর সহযোগিতায় প্রচার-প্রচারণাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো স্বজনের সন্ধান না মিললে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-কে অবহিত করা হবে।
একটি নবজাতকের এমন পরিণতি সমাজের মানবিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। একটি সন্তানকে পৃথিবীতে আনতে বাবা-মা কত কষ্ট করেন, তার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করেন। আবার সন্তানহীন দম্পতির কাছে একটি শিশুর মুখ দেখা কতটা আকাঙ্ক্ষার, তা তারাই সবচেয়ে ভালো বোঝেন। অথচ সেই শিশুই জন্মের পর মায়ের কোলে নয়, পড়ে থাকল ঝোপঝাড়ে, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
Exit mobile version