
সরেজমিনে পুটিয়া নদীতে গিয়ে দেখা যায়, সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের দু’পাশে পুটিয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম পাশে এক থেকে দেড়’শ একর জায়গাজুড়ে দেওয়া হয়েছে পাটির বাঁধ। লীজ দেয়া হয়েছে নদীর মাত্র ৬২ একর জায়গা। কিন্তু মনগড়ামত ঘুরিয়ে ফিরিয়ে গোটা হাওরের কয়েক’শ একর জায়গায় দেয়া হয়েছে পাটির বাঁধ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নদীর প্রবাহ। ইচ্ছেতমত চলছে মাছ ধরার কাজ। পাটির বাঁধের কারনে হাওরের বিশাল এলাকায় গত দেড় মাস পূর্ব থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে সকল নৌকা চলাচল। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে নির্বিচারে চলছে মৎস্য নিধন। স্থায়ী ভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে মাছের প্রজনন ক্ষমতা। পদদলিত করা হচ্ছে ওই এলাকার জীব বৈচিত্র। নদী থেকে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা যাদের একমাত্র পেশা। সেই অসহায় দরিদ্র জেলেরা বাঁধ দেয়ার কারনে এখন আর নদীতে নামতে পারছে না। ফলে পরিবারের তিন বেলার আহার যোগাড় খুবই কষ্টসাধ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতকিছুর পরও সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসন একদম নীরব। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় ৪/৫জন জেলে বলেন, লীজ গ্রহীতা খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তি। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছি জানতে পারলে আমাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে দিবে। তিনি পুরো হাওরেই পাটির বাঁধ দিয়েছেন। বাঁধের ভিতরে যাওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। গত ৩/৪ বছর আগেও এ সময়ে আমরা হাওরে জাল দিয়ে মাছ ধরেছি। এখন নদীতে নামতেই পারি না। যেখানেই জাল ফেলি বাঁধা। ভাবে মনে হয় সমগ্র হাওরই উনারা সরকার থেকে লীজ নিয়েছেন। এখন আমরা কি খেয়ে বাঁচব? লীজ গ্রহীতা ধর্মতীর্থ মৎসজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি দূর্গাচরন দাস শুধু ৬২ একর জায়গা লীজ নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সারা দেশ যেভাবে চলছে আমিও সেই ভাবে চলছি। সরাইল উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. মাইনুল আবেদীন বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। কালিকচ্ছ ইউনিয়নের উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তাকে সরজমিনে দেখে এ বিষয়ে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন পেয়ে ব্যবস্থা নিব।