The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

সরাইলে দুস্হদের চালচাল নিয়ে নানা নাটকিয়তা

সরাইল প্রতিনিধি:: সরাইলে দুস্হদের বিক্রি করা (ভিজিডি) চাল নিয়ে চলছে নানা নাটকিয়তা। পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে বসতবাড়ি থেকে জব্দ করানো হয়েছে ১০০ বস্তা সরকারি চাল। গত বুধবার রাত ১১ টার দিকে উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের আজহার উদ্দিনের বসতবাড়ি থেকে ৩০০০ কেজি ওজনের ১১৯ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেছে। এ সময় পুলিশ ৫ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন তৌহিদ মিয়া (৫০), মাসুদ মিয়া (৪৫), সাইফুর রহমান (৪৫), রাজন মিয়া (২১) ও শাকিল মিয়া (২০)। তাঁরা সবাই দেওড়া গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় সরাইল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গোপী মোহন সরকার বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৪ এর বি ধারায় গত বৃহস্পতিবার মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা রয়েছে আরও ৩/৪ জন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সরকার ভার্নারেবল গ্রুপ ডেভলাপমেন্ট (ভিজিডি) কর্মসূচির আওতায় পল্লি অঞ্চলের হত দরিদ্র নারীদের মাঝে দুই বছরের জন্য প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করে আসছেন। এ জন্য প্রতি নারীকে ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিমাসে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় জমা রাখতে হয়। যা তাঁরা ২৪ মাস পর ফেরৎ পাবেন। তবে গত জুন মাস থেকে চাল বিতরণ বন্ধ ছিল। উপজেলার শাহজাদাপুর ইউয়িনের ১৫৭ জন হত দরিদ্র নারী এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। গত বুধবার থেকে ওই ইউনিয়নে তিন মাসের চাল এক সাথে বিতরণ শুরু হয়। বুধবার রাতে পুলিশ যে চাল জব্দ করেছে তা এ ভিজিডির চাল বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে গতকাল পর্যন্ত ১৫৭ জন হতদরিদ্র তাঁদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বুঝে নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের নথিপত্রে হতদরিদ্রের টিপসইও রয়েছে।
শাহজাদাপুর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড নিয়ামতপুর গ্রামের সবাই টাকার জন্য দুই বস্তা (৬০ কেজি) করে চাল বিক্রি করে দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, যেসব নারী দূর দূরান্ত থেকে এসেছিলেন তাঁরা পুরো ৯০ কেজি চালই বিক্রি করে চলে গেছেন। মহিলারা প্রায় সময়ই পরিষদ থেকে চাল উত্তোলন করার পর বিক্রি করে দেন। ওই চালগুলোই আটক ব্যক্তিরা ক্রয় করে এক স্থানে মজুদ করেছিলেন। শাহজাদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার এখানে যথাযথ প্রক্রিয়ায় হতদরিদ্র নারীদের মাঝে চাল বিতরণ হচ্ছে। এখান থেকে চাল নিয়ে কেউ তাঁদের প্রয়োজনে বিক্রি করে থাকলে আমাদের কিছুই করার থাকে না। আমার এখানে চাল বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।’

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এস এম মোসা বলেন,‘ যেহেতু বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল এক সাথে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের অধিনে পাওয়া গেছে তাই, ওই ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপির সচিব গাজী সিরাজুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট টেক কর্মকর্তা (উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা) কাজী আবদুল মোমেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাঁদেরকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। উপযুক্ত জবার দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Exit mobile version