
নাসিরনগর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এই ঘোষণা দেয় জাতীয় হিন্দু মহাজোট।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার গুজবের ওপর ভিত্তি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, হবিগঞ্জের মাধবপুর, সুনামগঞ্জের ছাতকসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০০ হিন্দু পরিবার, ১৫-৩০টি মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর, হিন্দুদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছে। শ্লীলতাহানি করা হয়েছে সংখ্যালঘু নারীদের। এসব ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অত্যাচারকেও হার মানায়।
হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারকে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে হুঁশিয়ার করা হয়, এ সময়ের মধ্যে প্রকৃত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
বিচারহীনতার নীতি থেকে হিন্দুদের ওপর হামলার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে দাবি করে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দাস বলেন, ‘বাংলাদেশকে হিন্দুমুক্ত করার জন্য, সরকারসহ সব প্রশাসনিক মহল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হাামলার উপযুক্ত বিচার না হলে এই আন্দোলন থামিয়ে রাখা যাবে না। হিন্দু জোট এই আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’
হিন্দু মহাজোটের সভাপতি দীনবন্ধু রায় বলেন, ‘সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কুচক্রি মহলের লোকেরাই হিন্দুদের ওপর হামলা করছে। অন্যদিকে সরকার ইচ্ছেমতো একজনকে গ্রেপ্তার করে আবার কিছুদিন পর জামিন দিয়ে দিচ্ছে। আসল অপরাধী বিচারের বাইরে চলে যাচ্ছে।’ সরাসরি তদন্ত করে বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি সুশীল কুমার পাইক, অ্যাডভোকে দীপঙ্কর সরকার, অ্যাডভোকেট গৌরাঙ্গ মন্ডল, সহসাধারণ সম্পাদক নির্মল চন্দ্র হাওলাদার, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রতীভা বাগচী প্রমুখ।