The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

সংযোগ সড়ক নেই, ৩ কোটি টাকার সেতু পড়ে আছে অকেজো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ঝিঁকরা এলাকায় গুংগুর নদীর ওপর প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি সংযোগ সড়কের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সেতুর দুই পাশে ওঠানামার উপযোগী সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে নদী পারাপারে নিজেদের উদ্যোগে কাঠের সাঁকো তৈরি করেছেন তাঁরা। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ওই সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন কসবা ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মানুষ।
কসবা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের ঝিঁকরা এলাকায় গুংগুর নদীর ওপর ৩২ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩ কোটি ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পায় মোজাহার এন্টারপ্রাইজ ও মোস্তফা কামাল জেমি এন্টারপ্রাইজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হলেও দুই পাশের সংযোগ সড়ক নিচু থাকায় সেতুতে ওঠানামা করা যাচ্ছে না। ফলে সেতুটি স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসছে না। নদী পারাপারে সেতুর পাশে তৈরি করা সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকোটিই এখন তাঁদের একমাত্র ভরসা।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষের জন্য এই সাঁকো দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। একটু অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সেতুটি চালু হলে দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তা পূরণ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে সেতু নির্মাণের পরও কেন সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করা হচ্ছে না? প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমা কত ছিল এবং কবে নাগাদ সেতুটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী হবে, তা নিয়েও তাঁরা স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান।
কায়েমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন বলেন, সংযোগ সড়কের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুই উপজেলার মানুষ সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না। সেতু নির্মাণের পরও মানুষকে কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেন কাজ শেষ করছে না, তা বুঝতে পারছেন না তাঁরা। দ্রুত সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মাজহারুল হক আকন্দ বলেন, কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হচ্ছে। তবে মাটি কাটার ভেকু মেশিন না পাওয়ার কারণ দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের কালক্ষেপণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তবে সংযোগ সড়কের কাজ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি কাজ শেষ করতে বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
Exit mobile version