The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

শঙ্খ-উলুধ্বনি ও আগমনী গানে মুখর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মহালয়ায় দুর্গোৎসবের সূচনা

শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর আগমনী গানে মুখর হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। মহালয়ার মধ্য দিয়ে শনিবার (১০ অক্টোবর) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। দেবীপক্ষের আগমনী বার্তায় মেতে উঠেছেন ভক্তরা।
শনিবার ভোরে শহরের শিববাড়ি এলাকার পুষ্পাঞ্জলি সংসদ পূজামণ্ডপ এবং মধ্যপাড়া রাধামাধব মন্দিরে মহালয়া উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র চণ্ডীপাঠ, আগমনী সংগীত ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আমন্ত্রণ জানান ভক্তরা।
অনুষ্ঠানে সনাতনী শিল্পগোষ্ঠীর শিল্পীরা দেবীর আগমনী গান পরিবেশন করেন। তাঁদের সুরে মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। লাল-সাদা শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে বিভিন্ন বয়সী ভক্তরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। চণ্ডীপাঠের মন্ত্রধ্বনি, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে সৃষ্টি হয় ধর্মীয় আবহ।
পুষ্পাঞ্জলি সংসদের আয়োজক নয়ন কর বলেন, মহালয়ার মধ্য দিয়ে মর্ত্যে দেবীর আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। চণ্ডীপাঠ ও আগমনী গানের মাধ্যমে তাঁরা দেবীকে বরণ করেছেন। দেবীর কাছে সবার মঙ্গল, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন তাঁরা।
চয়ন দাস নামে এক ভক্ত বলেন, মহালয়ার এই শুভক্ষণে তাঁদের প্রত্যাশা, সারা বিশ্বে শান্তি বিরাজ করবে এবং মাতৃভূমি শান্তিতে থাকবে। সব অশুভ শক্তির বিনাশ হবে—এটাই তাঁদের প্রার্থনা।
শিববাড়ি মন্দিরের পুরোহিত নন্দ কিশোর চক্রবর্তী বলেন, মহালয়া পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার বিশেষ তিথি। এর মধ্য দিয়েই দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ করা হয়। পাশাপাশি দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং গমন নৌকায়। পাঁচ দিন ভক্তদের মধ্যে থেকে বিজয়া দশমীতে দেবী কৈলাসে ফিরে যাবেন।
এদিকে মহালয়া উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিববাড়ি, মধ্যপাড়া ইসকন মন্দির, কালভৈরব মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দেবীপক্ষকে ঘিরে এখন থেকেই শারদীয় দুর্গোৎসবের অপেক্ষায় রয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
Exit mobile version