স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে আসতে পারেন—এমন খবরে হঠাৎ বদলে যায় হাসপাতালের চিত্র। শুরু হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সরিয়ে নেওয়া হয় হাসপাতালের সামনের হকারদের দোকান ও যানবাহন। কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেন আগে থেকে অনুপস্থিত চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতালের প্রবেশপথে অবস্থান নেন তত্ত্বাবধায়ক, চিকিৎসক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে আসেননি মন্ত্রী।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালজুড়ে চলে এই ব্যস্ততা। মন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমন ঘিরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ছিল নানা প্রস্তুতি ও অপেক্ষা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মন্ত্রীর আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের আশপাশে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়। ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করা হয় মেঝে ও আশপাশের এলাকা। সরিয়ে নেওয়া হয় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আবর্জনা। হাসপাতালের সামনের অংশে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগও দেখা যায়।
এদিকে হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। গেট থেকে শুরু করে ভেতরের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় সংশ্লিষ্টদের। হাসপাতালের প্রবেশপথে তত্ত্বাবধায়ক, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা মন্ত্রীর অপেক্ষায় অবস্থান নেন।
জানা যায়, বুধবার ‘রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় মোবাইল হাসপাতাল কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি অনির্ধারিতভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে আসতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর মন্ত্রীর অবস্থান সম্পর্কে বারবার খোঁজ নেওয়া হয়। তিনি ভাদুঘর এলাকায় পৌঁছেছেন—এমন খবরের পর হাসপাতালের প্রধান ফটকে অপেক্ষা আরও বাড়ে। পরে পৈরতলা এলাকা পার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত তাঁর হাসপাতালে আসা নিশ্চিত হয়নি।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মন্ত্রীর গাড়িবহর সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় রয়েছে বলে খবর আসে। এরপর তিনি আর হাসপাতালে আসছেন না—এমন ধারণা থেকে অপেক্ষারত ব্যক্তিরা ধীরে ধীরে নিজ নিজ কাজে ফিরে যান।
মন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে কেন্দ্র করে অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালের দৃশ্যপটে এমন পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে নিয়মিত সময়ে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং রোগীদের সেবার মান কতটা বজায় থাকে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
