The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে অসুস্থ সন্তানকে দেখতে এসে স্ত্রীর ছুরিকাঘাতে স্বামী আহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে অসুস্থ সন্তানকে দেখতে এসে স্ত্রীর ছুরিকাঘাতে মো. তুহিন (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (৫ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে হাসপাতালের শিশু বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত তুহিন বর্তমানে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত তুহিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার গোকর্ণঘাট গ্রামের আমিনপুর এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত স্ত্রী মরিয়ম (১৮) নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে।
হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তুহিন ও মরিয়মের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মোস্তাকিম (১) নামে এক ছেলে সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে শনিবার (৪ জুলাই) সকালে মরিয়ম সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়লে শনিবার দিবাগত রাতে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়। তবে বিষয়টি তুহিনকে জানানো হয়নি। রোববার রাতে সন্তানের হাসপাতালে ভর্তি থাকার খবর পেয়ে তুহিন হাসপাতালে গেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় মরিয়ম শিশু ওয়ার্ড থেকে একটি ছুরি এনে ওয়ার্ডের প্রবেশপথে তুহিনের বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শারমিন সিদ্দিকা জানান, ঘটনার আগে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের সামনে তুহিন তার স্ত্রীকে মারধর করেন। পরে মরিয়ম শিশু ওয়ার্ড থেকে ছুরি এনে স্বামীর ওপর হামলা করেন। ঘটনার পর তিনি সন্তানকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান।
আহত মো. তুহিন অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী মরিয়ম শনিবার সকালে তার বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে তিনি কোথায় যেতেন বা কী করতেন, সে বিষয়ে তাকে কিছুই জানাতেন না।
তিনি আরও বলেন, শনিবার রাতে তাদের অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। রোববার হাসপাতালে সন্তানকে দেখতে গেলে স্ত্রী মরিয়ম তাকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন তুহিন। তার দাবি, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের দাম্পত্য জীবনে নিয়মিত অশান্তি চলছিল।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক যুবক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত নারী সন্তানকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Exit mobile version