ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। তিনি পৌরসভাকে ‘বড়লোকের বস্তি’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় খসড়া মহাপরিকল্পনা উপস্থাপনবিষয়ক কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় এমপি শ্যামল বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা একটা বড়লোকের বস্তি। এই পৌরসভায় অনেক মেয়র ছিল। তারা কিন্তু কেউই তাদের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে এটাকে ঠিকমতো অ্যাড্রেস করেনি। এর দায়দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে, যারা মেয়র ছিলেন। আমি মনে করি সবার গাফিলতির জবাব দিতে হবে, এই ধ্বংসযজ্ঞের কারণে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা আসলে পৌরসভা নয়, বড়লোকের বস্তি। এখানে ড্রেনেজের কোনো প্রকল্প নাই, রাস্তা ছাড়াছাড়ির কোনো নিয়ম নাই। বিল্ডিংগুলো যে করছে, কোথায় রাস্তা হবে? একটা ৬ ফুট রাস্তার ওপর ১০ তলা বিল্ডিং। বিগত দিনে যারা মেয়র ছিল তাদেরও এই দায়দায়িত্ব নিতে হবে।’
১৮ দশমিক ০৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় পাকা ভবনের সংখ্যা প্রায় ৩৪ থেকে ৩৫ হাজার। এর বেশির ভাগই বহুতল ভবন। অনেক এলাকায় ভবনের গা ঘেঁষে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
১৮৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার জন্য বর্তমানে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পৌরসভা মিলনায়তনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘শেলটেক কনসালট্যান্টস (প্রা.) লি.’ তাদের প্রস্তুত করা খসড়া মহাপরিকল্পনা ও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম।
এ ছাড়া কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, এডিবি ও এএফডির প্রতিনিধি, পৌরসভার প্রকৌশলী, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
