ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ট্যাংকেরপাড় অন্নদা স্কুল রোডের ঐতিহ্যবাহী ‘বাদল স্টল’-এর কর্ণধার সমীর দাস (৬০) আর নেই। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
সমীর দাসের মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সঙ্গে কাটানো পুরোনো দিনের স্মৃতি তুলে ধরে শোক প্রকাশ করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শহরের মানুষের কাছে ‘বাদল স্টল’ শুধু একটি চায়ের দোকান ছিল না; দীর্ঘদিন ধরে এটি ছিল আড্ডা, মতবিনিময় ও সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র। রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নিয়মিত আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল জায়গাটি।
বিশেষ করে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের শৈশব-কৈশোরের নানা স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাদল স্টল। চা, পুরি, সমুচা, সিঙ্গারা ও লাড্ডুসহ বিভিন্ন খাবারের পাশাপাশি বন্ধুবান্ধবের আড্ডার জন্যও জায়গাটি ছিল পরিচিত।
স্থানীয়দের মতে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাদল স্টল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের মিলনস্থল হিসেবে টিকে ছিল। অনেকের কাছে এটি ছিল অনেকটা কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কফি হাউসের মতো—যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে আড্ডায় মিলিত হতেন।
বাবার মৃত্যুর পর সমীর দাসই বাদল স্টলের দায়িত্ব নেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ধরে রাখেন। তাঁর সদালাপী, হাস্যোজ্জ্বল ও আন্তরিক আচরণে নিয়মিত আড্ডায় আসা মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আপনজনের মতো।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন শাহীন এক শোকবার্তায় বাদল স্টলকে শহরের প্রবীণ-নবীনদের ঐতিহ্যবাহী আড্ডাস্থল হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্নদা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্কুলের শিক্ষার্থীদের সিঙ্গারা-লাড্ডুর স্মৃতিও এই স্টলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম খোকন বলেন, সমীর দাসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের স্মৃতি রয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বাদল স্টলে এসে সবাই একসঙ্গে আড্ডা দিতেন। সমীরের চলে যাওয়া সেই দীর্ঘদিনের আড্ডা ও স্মৃতির একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সময়ের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অনেক কিছু বদলে গেলেও বাদল স্টল তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছিল। সেই ঐতিহ্যের অন্যতম পরিচিত মুখ সমীর দাসের মৃত্যুতে শহরের একটি পরিচিত আড্ডাকেন্দ্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক প্রজন্মের স্মৃতিতেও যেন ছেদ পড়ল।
সমীর দাসের মৃত্যুতে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দীর্ঘদিনের পরিচিতজনরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
