চিকিৎসক সংকট ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সাড়ে সাত বছরের বেশি সময় ধরে চোখের সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চক্ষু ওয়ার্ড ও অস্ত্রোপচার কক্ষ (ওটি) বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জেলার অসংখ্য রোগীকে।
বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলো-এর সম্পাদকীয়তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রতি স্বাস্থ্য প্রশাসনের ‘সুনজর’ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ২০১৮ সাল থেকে হাসপাতালটির সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালট্যান্টের দুটি পদই শূন্য রয়েছে। দীর্ঘ সময় কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই কেবল মেডিকেল অফিসার দিয়ে বহির্বিভাগের কার্যক্রম চালানো হয়েছে। বর্তমানে একজন চিকিৎসক নিয়োজিত থাকলেও নষ্ট যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে চোখের অস্ত্রোপচার চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
অথচ একসময় এ হাসপাতালে প্রতি মাসে ২০০ জনের বেশি রোগীর চোখে অস্ত্রোপচার করা হতো। বর্তমানে ছানি পড়া কিংবা চোখের বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের রোগীদের বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি চিকিৎসা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সম্পাদকীয়তে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের আধুনিক ও সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৯ লাখ টাকা মূল্যের লেজার ও ওসিটি মেশিন এবং ১৫ লাখ টাকা মূল্যের অপারেটিং মাইক্রোস্কোপ রয়েছে।
প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের অভাবে সেবা বন্ধ থাকা এবং কোটি টাকা মূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম অব্যবহৃত রেখে নষ্ট হয়ে যাওয়া সরকারি স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিহীনতার চিত্র তুলে ধরে।
এ অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন, নষ্ট যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন এবং চক্ষু ওয়ার্ড ও অস্ত্রোপচার কক্ষ পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ অব্যবহৃত রেখে নষ্ট হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, প্রকল্প কিংবা আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ দ্রুত সচল করা এখন সময়ের দাবি।
