ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সরকারি ফোন নম্বর তাঁর স্ত্রী ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকেরা। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন থানার ওসিরা সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন সাংবাদিকেরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে নবাগত পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিমের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন সরাইল থানার ওসির সরকারি নম্বরে ফোন করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সম্প্রতি সরাইলে সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে জানতে ওই নম্বরে ফোন করলে ওসির পরিবর্তে তাঁর স্ত্রী কলটি রিসিভ করেন। এ সময় তিনি ওসির সঙ্গে কথা বলতে হলে বিকল্প ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দেন। এ-সংক্রান্ত কল রেকর্ডও পুলিশ সুপারকে শোনান প্রেসক্লাব সভাপতি। বিষয়টি শুনে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিস্ময় প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকেরা অভিযোগ করেন, জেলার বিভিন্ন থানার ওসিরা তাঁদের ফোন এড়িয়ে চলেন। এ ছাড়া থানায় সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও তোলেন তাঁরা। বিশেষ করে নবীনগর থানার ওসি মোরশেদুল আলম চৌধুরী ও কসবা থানার ওসি আলী মো. রাশেদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করেন সাংবাদিকেরা।
এ পরিস্থিতিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।
জবাবে পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, ওসিরা যেন ফোন রিসিভ করেন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে সহযোগিতা করেন, সে জন্য তাঁদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি জেলা। তবে বর্তমানে কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্তি, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ও গোষ্ঠীগত দাঙ্গাসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে পুলিশ কাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রকীব উর রাজা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু সাঈদ মো. গাওছাল আজমসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
