ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে মন মিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী গৃহবধূর মায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার মন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার বাসিন্দা।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে গৃহবধূর স্বামী পুকুর পাহারায় গেলে তিনি শোবার ঘরে একা ছিলেন। এ সময় তাঁর শ্বশুর তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর প্রায় এক মাস আগেও একইভাবে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারলে গৃহবধূর স্বামী তাঁর বাবার হয়ে ক্ষমা চান এবং বিষয়টি কাউকে না বলার অনুরোধ করেন। পরে তিনি বিষয়টি ক্ষমা করে দেন বলে জানা গেছে। তবে সর্বশেষ ঘটনার পর বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানালে তাকে মারধর এবং ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।
পরদিন ভোরে গৃহবধূ শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে ২৩ আগস্ট তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে মন মিয়ার ছেলের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। প্রায় এক মাস আগে মন মিয়া প্রথমবার তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করেন বলে তিনি জানতে পারেন। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে আবারও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদ তাঁকে মারধর এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে থানায় মামলা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক মাহফিদা আক্তার হ্যাপী বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ওই গৃহবধূ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সোয়াব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূকে তাঁর শ্বশুর ধর্ষণ করেছেন—এমন অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার পরপরই অভিযুক্ত মন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
