ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক হালিমুল ইসলাম (২৬)-এর মরদেহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে মরদেহ গ্রহণের পর নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে আখাউড়া রেলওয়ে থানায় পরিবারের আবেদনের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় সামাজিক সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর-এর মাধ্যমে মরদেহটি নিহতের বড় ভাই হাফিজুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় নিহতের মামী জরিনা বেগম ও ভাবী শিরিনা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
মৃত হালিমুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামের করুয়াতলী এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে আখাউড়ার খরমপুর গ্রামের চানপুর এলাকার রিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের এক বছর বয়সী কন্যাসন্তান বাবুনী রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি গলায় টনসিলের সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (৬ জুলাই) সকালে আজমপুর রেলস্টেশন থেকে কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসেন। ট্রেন থেকে নামানোর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর কয়েকজন যাত্রী অসুস্থ অবস্থায় থাকা হালিমুল ইসলামকে প্ল্যাটফর্মে নামিয়ে দেন। পরে স্টেশনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় মাহফুজ মিয়া তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করলে মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের কার্যক্রম শুরু করে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে তার ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন। পরে পরিবারের আবেদনের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “পরিবারের সদস্যরা পরিচয় নিশ্চিত করার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, “প্রথমদিকে পরিচয় না পাওয়ায় পিবিআইয়ের সহায়তায় শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মরদেহ তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
নিহতের বড় ভাই হাফিজুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাই চিকিৎসার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু জীবিত অবস্থায় আর ফিরে আসেনি। প্রশাসন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের সহযোগিতায় আমরা দ্রুত মরদেহ বুঝে পেয়েছি। যারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
