ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরের (১৬) মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর পরও তাঁর নাম-পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
রোববার (৩০ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ আগস্ট দুপুরে বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অজ্ঞাত অবস্থায় ওই কিশোরকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে একই দিন সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই কিশোরটি ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এদিকে কিশোরটির পরিচয় শনাক্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাঁর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে। তবে বয়স কম হওয়ায় তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কিশোরটিকে উদ্ধারকারী বেলায়েত হোসেন জানান, বিজয়নগরের চম্পকনগর নৌকা ঘাটে পরিচয়হীন এক প্রতিবন্ধী কিশোর তিন দিন ধরে পড়ে ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনার দিন দুপুরে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁর বন্ধু শাহাদাত, মোস্তাকিম, জয়, ফাহাদসহ কয়েকজন। পরে তাঁরা কিশোরটিকে গোসল করিয়ে নতুন জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করেন এবং বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
বেলায়েত হোসেন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে পাঠানো হয়। এরপর থেকে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-এর তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তবে কিশোরটির মৃত্যুর খবর শুনে তাঁরা অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অজ্ঞাত কিশোরের এনআইডি কার্ড না থাকায় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত তাঁর নাম, পরিচয় কিংবা ঠিকানা পাওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো স্বজনের সন্ধান পাওয়া না গেলে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-কে অবহিত করা হবে।
