ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় অনেকে ঘরের আসবাবপত্র, ফ্রিজ, এসি, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি নিয়ে এলাকা ছাড়ছেন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত দুই ব্যক্তি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকায় এবং তাদের একজনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
গত ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের পর বুধবার বিকেল থেকে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করে। ভ্যান, অটোরিকশা ও ট্রাকে করে ঘরের আসবাবপত্র, ফ্রিজ, এসি, বিছানাপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগিও নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশেষ করে নারীরা পরিবার ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। অনেক পুরুষও নিরাপত্তার কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে তারা জানান।
এদিকে সংঘর্ষে গুরুতর আহত আক্তার চেয়ারম্যান গ্রুপের নুরে আলম ও বকুল চেয়ারম্যান গ্রুপের বিল্লাল বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে নুরে আলমের মৃত্যুর খবর বারবার ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আক্তার চেয়ারম্যান গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা কারও বাড়িতে হামলা করতে চান না। আতঙ্কিত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন নিজেরাই এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।
সংঘর্ষের পর ইছাপুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল চলছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
