The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

বিজয়নগরে নারী নির্যাতন, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে মোল্লা গিয়াসউদ্দিনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে জমি ও বসতভিটার বিরোধকে কেন্দ্র করে নারী নির্যাতন, সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিজয়নগর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী নিলুফা বেগম। তিনি পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা ও কামাল মিয়ার স্ত্রী। আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে একই এলাকার গিয়াস উদ্দিন (৫৮), কাইয়ুম (৬০), সিরাজ মিয়া (৫৫), ইউনুছ আলী (৬২), তাজুল ইসলাম (৬০), মোবারক ওরফে ফরাস উদ্দিন (৫৫), আক্তার (৪৫), তারেক (২২), নজরুল (২৪), জাহিদুল ইসলাম (২২), আনোয়ার হোসেন ও আরমান (২৫)কে।
হামলায় গুরুতর আহত হন বাদী নিলুফা বেগম, যার মাথা ও ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। এছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন জহুরা বেগম, সুমা আক্তার (সুজিয়া), সালমা, আয়েশা, আফিয়া বেগম, কামাল মিয়া, সাইফুল, হেলাল , নুর হোসেন, শাহআলম। তাদের মধ্যে কয়েকজনের হাড় ভাঙা, কাটা ও রক্তাক্ত জখমের ঘটনা ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর স্বামী কামাল মিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা-মোকদ্দমা বিচারাধীন রয়েছে। পূর্বের একটি ঘটনায় শান্তি রক্ষার মুচলেকা দেওয়ার পরও অভিযুক্তরা বাদীপক্ষকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, গত ৯ জুন সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা বাইরে থাকাকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা বাড়ির বিভিন্ন ফলজ গাছ কেটে ফেলে এবং বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালায়। হামলার সময় নিলুফা বেগমকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হলে তার মাথা ও ডান হাতে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া উপস্থিত কয়েকজন নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও আনা হয়েছে। হামলায় একাধিক নারী আহত হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল ও বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার সময় ঘর থেকে নগদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা চুরি করে নেওয়া হয় এবং বাদীর মেয়ের গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া বাড়ির নির্মাণকাজের জন্য রাখা ১৬টি পাকা পিলার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও অভিযুক্তরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। পরে ১০ জুন সকালে আদালতে মামলা করতে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হন।
মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৫৪, ৩৭৯, ৩৮০ ও ৫০৬(২) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
গত ১০ জুন অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিচারক রোকেয়া আক্তার অভিযোগটি পর্যালোচনা করে নালিশী আরজিকে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার জন্য এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
Exit mobile version