ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখার অভিযোগে মো. শহীদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলা সদরের নূরজাহান শপিংমলে অবস্থিত **‘হাজী মুখলেছুর রহমান চক্ষুসেবা কেন্দ্র ও চশমাঘর’**-এ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মো. শহীদুল্লাহ চিকিৎসক হিসেবে প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ সনদ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধন কিংবা অনুমোদিত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
অভিযুক্ত মো. শহীদুল্লাহ কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার বাসিন্দা এবং শামসুল আলম শিকদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে নিজেকে চক্ষু চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এবং কুমিল্লার হোমনাসহ বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখে আসছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন চক্ষু হাসপাতালে অপারেশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ মিয়া, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) এসআই লুতফুর রহমান, পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, “জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভুয়া চিকিৎসক ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে প্রতারণার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
