ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে শিল্পী বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাঁর স্বামী শাহ নবী পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। পরিবারের দাবি, শিল্পী বেগমকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোররাতে উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মধ্যনগর গ্রামের মধ্যপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিল্পী বেগম ওই এলাকার নুরু মিয়ার মেয়ে ও শাহ নবীর স্ত্রী। তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান পরিবারের লোকজন। পরে স্বামী শাহ নবী শিল্পী বেগমকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের ভাই ইসমাইল অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বোনের নামে কিস্তিতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন শাহ নবী। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা নিয়ে তিনি বিদেশেও যান। তাঁর দাবি, শিল্পী বেগমের গলায় দাগ রয়েছে এবং তিনি স্ট্রোকে মারা যাননি। পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পরই তাঁর বোনজামাই পালিয়ে যান। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।
বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। গলায় দাগ থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
