
দ্য আটলান্টিক সাময়িকির সর্বশেষ সংখ্যায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিসিঞ্জার স্বীকার করেছেন, নিক্সন প্রশাসন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) পাকিস্তান সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম নৃশংসতার বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। আমেরিকা ও চিনের সম্পর্কোন্নয়নে ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্যই এটা করা হয়েছিল। সাক্ষাৎকারে কিসিঞ্জার জানান, ‘বাংলাদেশ সংকট ছিল মূলত বাঙালিদের পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার পদক্ষেপ। পাকিস্তান তা চরম সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা
কিসিঞ্জার বলেন, ‘পাকিস্তানের মাধ্যমে চিনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার জন্য একাধিকবার আহ্বান জানায়। নভেম্বরে নিক্সনের সঙ্গে আলোচনায় পরবর্তী বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিতে একমত হন পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট। আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সামরিক চুক্তির পর এবং শরণার্থী সংকট কাটাতে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) অভিযান শুরু করে ভারত।’ ‘ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সোভিয়েত চাপ, ভারতের উদ্দেশ্য, চিনের সন্দেহ ও পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের বিষয় নিয়ে ভাবতে হয়েছে।’
প্রাক্তন মার্কিন বিদেশসচিব বলেন, ‘সমন্বয় করতেই হতো এবং তার জন্য নতুন কিছু দরকার ছিল। কিন্তু ফলাফল নিয়ে কোনও দুঃখপ্রকাশের সুযোগ ছিল না। সংকট শুরু হওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শেষ হয়ে যায় এবং ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেজিংয়ে একটি সম্মেলনে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। সবই ঘটে ১৯৭২ সালের মার্চের আগেই।’ আরও বলেন, ‘১৯৭২ সালের মে মাসে মস্কোতে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৭৪ সালের মধ্যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয় মার্কিন-ভারত যৌথ কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে। যা এখনও ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।’ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সমর্থন করে কিসিঞ্জার বলেন, ‘সিরিয়া, লিবিয়া, মিসর, ইরাক ও আফগানিস্তানে যা ঘটছে ,সে তুলনায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যে ত্যাগ করেছে, সেটার অনেক বেশি সুস্পষ্ট সমাপ্তি ছিল।’