মিঠু সূত্রধর পলাশ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। রবিবার (০৯ আগষ্ট) দুপুরের ১০-১৫ মিনিটের ভারী বর্ষণে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক,উপজেলা পরিষদ, সদর ভূমি অফিস ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও তারও বেশি পানি জমে থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নামেমাত্র প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। নাগরিক সেবার মান অত্যন্ত নিম্ন। ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা এবং ড্রেনগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বর, নবীনগর প্রেসক্লাব ভবন, কলেজপাড়া, হাসপাতার পাড়া,নবীনগর বিজয় পাড়া,নবীনগর পশ্চিম পড়া,পঞ্চবটী সহ আশপাশের এলাকায় হাঁটুপানি জমে রয়েছে।
পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের বিজয় পাড়া,পশ্চিম পাড়া,৩ নং ওয়ার্ড নবীনগর উত্তর পাড়া, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ভোলাচং, নারায়নপুর, ১ নং ওয়ার্ডের আলমনগরে বৃষ্টির পানি জমে ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। সদর বাজারে অনেক দোকানে পানি ঢুকে পরে।
কলেজপাড়ার সড়কে হাঁস সাঁতার কাটতে দেখা গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের প্রবেশপথ, সরকারি কোয়ার্টার এলাকা, উপজেলা মসজিদসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পথচারী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা সফিক মিয়া বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও পৌরবাসী মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
পৌর এলাকার বিজয় পাড়ার বাসিন্দা মহিউদ্দিন বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই আমরা পানিবন্দী হয়ে পড়ি। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাহাবুব হোসেন বলেন, ‘ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো উন্মুক্ত ও অপরিষ্কার থাকায় আবর্জনায় ভরে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি ঠিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা স্বপ্না আক্তার বলেন, ‘দুর্গন্ধযুক্ত পচা পানি মাড়িয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানির কারণে বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকিও বাড়ছে।
নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু মোছা বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার পানি বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজব্যবস্থাই জলাবদ্ধতা সৃষ্টির প্রধান কারণ। জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
