
প্রতিবাদ মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে থানা কাম্পাউন্ডের সামনে অবস্থান করে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। পরে নাসিরনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চায় তারা।
প্রতিবাদ মিছিলে বক্তারা মুনাব্বির হত্যার সাথে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বোচ্চ শাস্তিও দাবি করা হয়।
গত ৯ নভেম্বর সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামে সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে পানি নিস্কাশন বন্ধের প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় তরুণ কবি সৈয়দ মুনাব্বির আহমেদ তননকে। নিহত মুনাব্বির আহমেদ আলিয়ারা গ্রামের শিব্বির আহমেদের ছেলে। এ ঘটনার পরের দিন তোফাজ্জল নামে একজনকে আটক করে পুলিশ।
মুনাব্বির ছিলেন একজন সফল সাংকৃতিক ব্যক্তিত্ব। ছিলেন সৃজন সাহিত্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, পিতৃছায়া প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী এবং একুশ সৃজন ও দশ দিগন্ত নামে একটি সাপ্তাহিক লিটল ম্যাগের সম্পাদক।
নাসিরনগর উপজেলা উদীচীর সভাপতি মহেন্দ্র চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও ঐকতান আবৃতি সংগঠনের পরিচালক শিবলী চৌধুরীর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতি সমাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া আহবায়ক মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ, জেলার সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট নাসির মিয়া, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মনির হোসেন, চেতনায় স্বদেশ গ্রন্থগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি আমির হোসেন, জেলা খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক নীহার রঞ্জন সরকার, উদীচী জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসুর রহমান, নাসিরনগর চেতনা নাট্য সংসদরে আহবায়ক মফিজুল ইসলাম রতন, বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতি সমাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুগ্ম আহবায়ক এরফাননুল হক সুজন, তিতাস সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোহাগ রায়, বাগান বিলাসী সংগঠনের সমন্বয়ক আশিকুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি কবি ফাহিম মুনতাসির, সৈয়দ , মাসুক আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মুকুল, নাসিরনগর সরকারি কলেজের শিক্ষক জামিল ফোরকান, ও মো. জিয়া উদ্দিন প্রমুখ।
কবি মুনাব্বির আহমেদ তননের হাতে গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভাতী ইসলামি কিন্ডার গার্টেনের ব্যানারে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।