ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে ১৪ সেপ্টেম্বর আয়োজিত অনুষ্ঠানকে ‘কনসার্ট’ বলা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন, নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট আয়োজনের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি; সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
সম্প্রতি নবীনবরণ উপলক্ষে গানের কনসার্ট স্থগিতের দাবিতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্মারকলিপি দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান বলেন, গানবাজনা ও নাচানাচি থাকলে তাদের আপত্তি রয়েছে। তারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে কলেজে গানবাজনা ও নাচানাচি চান না। এর আগে কলেজে কনসার্টকে কেন্দ্র করে এক তরুণী ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়েছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
ফুযায়েল আহমেদ খান আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। অধ্যক্ষ স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রায় চার বছর ধরে কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান হয় না। জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুবকে জানিয়ে তারা এবার অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ইসলামের প্রতি আমাদেরও শ্রদ্ধা ও সম্মান আছে। আমরা সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করব। আমরা চাই না জেলায় কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের প্রতিও আমাদের একই আহ্বান থাকবে। তবে আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব।”
সার্বিক বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান বলেন, “১৪ সেপ্টেম্বর আমরা তিনটি ধাপে অনুষ্ঠান করব। প্রথম ধাপে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠান, দ্বিতীয় ধাপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং তৃতীয় ধাপে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এখানে কোনো কনসার্ট হবে, এমন ঘোষণা আমরা দিইনি। আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব।”
তিনি জানান, কলেজের নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
