
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিতাস পাড়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরকে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়। এরপর ২০০৯ সালে এটিকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর ১৫ বছর এ পৌরসভাটি চলছে ক্ষমতাসীন দলের অনুগত কোনো নেতা আবার কখনো সরকারি কর্মকর্তা দিয়ে। পরে ২০১৪ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সরকারি কর্মকর্তাকে। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব চৌধুরী পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, ৬৮ হাজার ২১৯ জনসংখ্যার প্রথম শ্রেণির পৌরসভার অন্তর্গত ফতেহপুর রাস্তার বেহাল অবস্থা। স্থানীয়রা জানান, এই রাস্তার একাংশ প্রায় সারা বছরই পানির নিচে তলিয়ে থাকে। আর বৃষ্টি হলে ধারণ করে আরও ভয়াবহ রূপ। এ ছাড়াও বিজয়পাড়া, ভোলাচংসহ আরও একাধিক রাস্তা প্রায় সারা বছরই পানির নিচে তলিয়ে থাকে।
তলিয়ে থাকা ভাঙাচোরা এমন রাস্তায় যানবাহনসহ শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচল করতে গিয়ে বেড়ে যায় ভোগান্তি, প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। পৌর এলাকায় নিয়মিত ড্রেন খনন না করায় সামান্য বৃষ্টি হলেই সদর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাসহ আশপাশের রাস্তাগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। নবীনগর উপজেলা হেফাজত ইসলামের সভাপতি মাওলানা আমিরুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, পদ্মপাড়া ও বিজয়পাড়ার রাস্তাটি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে পানির নিচে তলিয়ে আছে। বৃষ্টির পানি জমে হাজার হাজার মানুষের ব্যস্ততম এই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে দ্রুত ড্রেন নির্মাণের দাবিতে কয়েকবার মানববন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এতেও কোনো কাজ হয়নি। আমরা চাই পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাগবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ড্রেন নির্মাণ করা হোক।
নবীনগর উপজেলা বিএনপির সহ-কৃষিবিষয়ক সম্পাদক মোশারফ হোসেন মুসা বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয়েও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরবাসী। ভোলাচং, পশ্চিমপাড়া, বিজয়পাড়া, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকাসহ সদর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো অল্প বৃষ্টি হলেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ ছাড়াও পশ্চিমপাড়া, বিজয়পাড়া রাস্তা দুটো সারা বছর পানির নিচে থাকে। পানির নিচে তলিয়ে থাকা রাস্তায় বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সব বয়সের মানুষ।
নবীনগর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুব আলম লিটন, বাজার কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মান্নান ভূঁইয়া রেনু সহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, নামে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর পানিতে ডুবে থাকা খানাখন্দে ভরা রাস্তায় বিপর্যস্ত নবীনগর পৌরসভা।