
এর আগে এ ঘটনায় রোববার ভোরে বল্লমের আঘাতে মেরাতুলি গ্রামের মালেক সর্দারের ছেলে শাহ আলম (৪২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এ নিয়ে ওই হামলায় দুজনের মৃত্যু হলো।
এদিকে দুই মৃত্যুর ঘটনায় গোটা গ্রাম মানুষ শুন্য হয়েছে গেছে। প্রতিটি বাড়ির ঘরে ঝুলছে তালা। গ্রামে টহল দিচ্ছে পুলিশ।
সরেজমিনে জানা যায়, মেরাতুলি গ্রামের জাহের মিয়ার ছেলে বাহার মিয়ার পরিবারের ঝগড়ার ভিডিও ধারন করেন সফর আলীর ছেলে রিফাত। এ নিয়ে বাহার মিয়া ও রিফাতের মধ্যে ঝগড়া হয়। বিষয়টি মিমাংশা করতে শনিবার রাতে জাহের মিয়ার উঠানে সালিশ বসে। সালিশে জিয়া নামের একজন না আসায় সভায় উপস্থিত শাহ আলম এর কারণ জিজ্ঞাস করে তাকে তাদের ঘর থেকে ডেকে আনতে গেলে সফর আলী, সাঈদুল, ছুট্টু ও আরাফাতের সঙ্গে তর্কবির্তক শুরু হলে সফর মিয়ার স্ত্রী, সালমা বেগম উপস্থিত লোকজনের উপর মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেয়। এ সময় সফর আলীর লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সালিশে আসা লোকজনের উপর অন্ধকারের মাঝে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়, এ সময় বল্লমের আঘাত শাহ আলমের চোখে লাগে। মাথায় আঘাত লাগে হামলাকারী আরাফাতের। গুরুতর আহত অবস্থায় শাহ আলম ও আরাফাতকে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মধ্যরাতে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথে রোববার ভোর রাতে শাহ আলম মারা যান। আরাফাতকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সোমবার ভোরে তিনিও মারা যান।
ওই হামলায় ৬ জন আহত হয়েছে। আরাফাত হত্যার ঘটনায় নিহত শাহ আলমের ভাইসহ ৫জনকে আটক করেছে পুলিশ। শাহ আলমের হত্যার ঘটনায় তার ছেলে বাদী হয়ে রবিবার রাতে নবীনগর থানায় একটি একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মালায় ২জনকে গ্রেপ্তার করে আজ সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।