মিঠু সূত্রধর পলাশ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাজেদুল ইসলাম সুমন স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ঐতিহাসিক লাউর ফতেহপুর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালকে ঘিরে মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শক খেলা উপভোগ করতে মাঠে জড়ো হন।
ফাইনালে মুখোমুখি হয় রতনপুর ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ ও কসবা ইউনাইটেড ফুটবল একাদশ। শুরু থেকেই দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত রতনপুর ইউনিয়ন ফুটবল একাদশকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় কসবা ইউনাইটেড ফুটবল একাদশ।
টুর্নামেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নজরুল ইসলাম নজুর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খেলোয়াড়দের সম্মানী দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ পর্যায়ে এত বড় পরিসরে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করার পাশাপাশি মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট আব্দুল মান্নান এমপি, মো. কামরুজ্জামান রতন এমপি ও সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা বলেন, লাউর ফতেহপুরের ঐতিহাসিক মাঠে বড় পরিসরের এমন আয়োজনকে ঘিরে দীর্ঘদিন পর এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বিপুল দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
টুর্নামেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নজরুল ইসলাম নজু বলেন, এবারের ফাইনালকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি এবং বিপুলসংখ্যক দর্শকের অংশগ্রহণে ফাইনালটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।
