The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

নবীনগরে সড়কের দুই পাশের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

মিঠু সূত্রধর পলাশ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজারে নবীনগর-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবসায়ীরা কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে শক্তিশালী ভেকু দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী অভিযান শেষে সড়কের দুই পাশ দখলমুক্ত করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে অভিযানে নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এলএ শাখা) মানস চন্দ্র দাস।
অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত সময় বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। হঠাৎ পরিচালিত এ অভিযানে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা সহজে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
বাঙ্গরা বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শামীম মিয়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মরত হিরন মিয়া জানান, উচ্ছেদ করা দোকানগুলো সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল। এর আগে একাধিকবার নোটিশ প্রদান ও মাইকিং করে অবৈধ স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। ফলে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ দখল যাতে না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাঙ্গরা বাজারের মধ্য দিয়ে চার লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় সরকারি জমি দখলমুক্ত করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
তবে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মানস চন্দ্র দাস এ বিষয়ে গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের মতে, বাঙ্গরা বাজার দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার এবং এটি উপজেলার কয়েক হাজার মানুষের জীবিকার অন্যতম কেন্দ্র। বাজারের বিপুলসংখ্যক স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে অনেক ব্যবসায়ী ও শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
Exit mobile version