The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

নবীনগরে নির্বাচনী পোস্টার লাগানো নিয়ে সংঘর্ষ, অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর আলগা হাটি এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পোস্টার লাগানোকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে আঘাত করার পর গর্ভপাত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই নারী ও তার স্বজনরা। তবে এ বিষয়ে পুলিশের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে নবীনগর থানা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগডহর গ্রামের কাদের মিয়ার ছেলে আওয়াল মিয়া ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় পোস্টার লাগান। এর কিছুক্ষণ পর একই গ্রামের বুজু মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়াও একই পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। পরে মিন্টু মিয়ার লোকজন আওয়াল মিয়ার লাগানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
এর জেরে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মিন্টু মিয়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন আওয়াল মিয়ার পক্ষের লোকজন। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর চালানো হয়। দোকানের ফ্রিজ, টিভি, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত ও তছনছ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া একটি বসতঘর থেকে ৯০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলায় বাধা দিতে গেলে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফারজানা (২৩) নামের এক নারীকে পেটে আঘাত করা হয়। এতে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মরিয়ম (২৬) নামে আরেক নারীকে মারধর করে তার হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন—ফারজানা (২৩), তার স্বামী সাদির মিয়া; মরিয়ম (২৬), তার স্বামী বাছির মিয়া; শামসুন্নাহার (৩০), তার স্বামী শহীদুল্লাহ; সাদির মিয়া (৩২), বাছির মিয়ার ছেলে এবং রোজিনা, তার স্বামী ওতোত মিয়া।
স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে ফারজানাসহ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী মিন্টু বলেন, প্রথমে আওয়াল মিয়ার লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন। পরে তার লোকজন গিয়ে পাল্টা হামলা চালায় এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাতের বিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানান।
অভিযুক্ত চাঁনবাদশা মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি তাদের পারিবারিক। তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি পরিস্থিতি সমাধানের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।
আহত ফারজানার স্বামী সাদির মিয়া বলেন, তার স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা বর্তমানে চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Exit mobile version