The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

নবীনগরে দীর্ঘদিনের দাঙ্গা নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের উদ্যোগ

মিঠু সূত্রধর পলাশ,নবীনগর প্রতিনিধি:  ব্রাহ্মণড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুইগ্রুপের বিরোধ নিষ্পত্তি ও শান্তির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই গ্রুপের মধ্যে দাঙ্গার কারণ ও এর প্রতিকারে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। দক্ষিণ লক্ষিপুর গ্রামের মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দাংগা নিষ্পত্তি লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইন শৃংখলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মাসুম।
দাঙ্গা নিষ্পত্তির বৈঠকে বক্তব্য রাখেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) চিত্ত রাঞ্জন পাল,নবীনগর থানার ওসি আসলাম সিকদার, আ’লীগ নেতা জহির উদ্দিন চৌধুরী শাহান, মো. জসিম উদ্দিন আহামেদ, মো. মলাই মিয়া, দুপ্রক সভাপতি আবু কামাল খন্দকার, সাংবাদিক মাহাবুব আলম লিটন, সাবেক চেয়ারম্যন ফজলুল হক সিকদার,ইউপি চেয়ারম্যন জিল্লুর রহমান, চেয়ারম্যান ফিরোজ মিয়া, চেয়ারম্যান কবির হোসেন,চেয়ারম্যান শাহিন সরকার, চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, মো. কামাল হোসেন, মো. মোসলেম মিয়া, জসিম উদ্দিন বসু প্রমুখ। উভয় পক্ষই শান্তির পক্ষে নিজস্ব মত ব্যক্ত করে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রামে আর কোন ধরনের দাঙ্গা সৃষ্টি হবে না মর্মে দুই পক্ষের বিশ জন মুচলেকা দেন।
উল্লেখ্য দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামের মধ্যে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আলাউদ্দিন আলম খান বাড়ি ও আতশ আলী মেম্বার বাড়ি গোষ্ঠির মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি পাল্টা পাল্টি মামলা মোকদ্দমা চলছে। গত ২ মার্চ শুক্রবার রাতে গ্রামে একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আতশ আলী মেম্বার বাড়ির গোষ্ঠীর লোক হুমায়নের সাথে আলম খান বাড়ির গোষ্টির লোক জিল্লুর রহমানের সাথে কথা কাটাকাটির জের ধরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। ওই দিনই মধ্য রাতে আতশ আলী মেম্বার গোষ্ঠির লোক দুলাল মিয়াকে প্রতিপক্ষের লোকজন একা পেয়ে কুপিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে।
এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় পাল্টা পাল্টি মামলা হলে গ্রেফতার ও লুটপাটের আতংকে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ হাটবাজার বন্ধ, ছাত্র/ছাত্রীদের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এবং এ খুনের ঘটনায় সকল মামলায় যারা জামিনে রয়েছেন ও সাধারণ মানুষ যারা গ্রাম ছাড়া তাদের গ্রামে ফিরিয়ে আনাসহ মানবাধিকার নিশ্চিত করতে স্থানীয় সাংসদ কর্তৃক গঠিত কমিটি উভয়পক্ষদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।

Exit mobile version