The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

তিতাস নদীতে অবৈধ জালের বেড়া, বিপাকে জেলে ও নৌযান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় তিতাস নদীতে অবৈধ জালের বেড়া দিয়ে মাছ শিকারের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। প্রভাবশালী একটি চক্র নদীর বিভিন্ন অংশে আড়াআড়িভাবে জাল বসিয়ে মাছ আহরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে সাধারণ জেলেরা জীবিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে নৌযান চলাচলেও সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরের মতো চলতি বছরও মে মাস থেকে নদীর বিভিন্ন স্থানে জালের বেড়া দেওয়া শুরু হয়। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ তিতাস নদীর দুই শতাধিক স্থানে এ ধরনের অবৈধ জাল বসানো হয়েছে। বিশেষ করে তিতাস মোহনা ও ঢোলভাঙ্গা নদীর বিভিন্ন অংশে ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট দীর্ঘ জাল দিয়ে নদীর বড় অংশ আটকে মাছ শিকার করা হচ্ছে।
উপজেলার তাতুয়াকান্দি, ভুড়ভুড়িয়া, পাইকারচর, চরশিবপুর, ইছাপুর, গলাচিপা, শান্তিপুর, নীলখী, সাহেবনগর ও আছাদনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর বিভিন্ন স্থানে জালের বেড়ার কারণে নৌকা চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
সাধারণ জেলেদের অভিযোগ, নদীর উন্মুক্ত জলাশয় দখল করে প্রভাবশালীরা নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করলেও প্রশাসনের তৎপরতা খুব একটা দেখা যায় না। চরশিবপুর গ্রামের জেলে সোহেল মিয়া বলেন, আমরা নদীতে মাছ ধরতে গেলেও নানা বাধার মুখে পড়ি। যাদের টাকা আর প্রভাব আছে, নদীর মাছও যেন তাদের দখলেই চলে গেছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আক্কাস আলী বলেন, নদীতে জালের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণ অবৈধ। বর্তমানে কতগুলো স্থানে এভাবে মাছ ধরা হচ্ছে, এ তথ্য আমার কাছে নেই। তিনি জানান, ছুটিতে থাকলেও বিষয়টি জেনেছেন। দায়িত্বে ফিরে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, নদীপথে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Exit mobile version