
এখনও পর্যন্ত ১৩জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে সেনা, তাঁরা বেশিরভাগই ভারতীয় ও জাপানি নাগরিক। ভেতরে ঠিক কজন মারা গেছেন এখনও জানা যায়নি, গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে সেনা। সেনা- জঙ্গি গুলির লড়াইয়ে বনানী থানার ওসি সহ ২ পুলিশ অফিসারের মৃত্যু হয়েছে, আহত অন্তত ২৬জন। উল্টোদিকে খতম হয়েছে অন্তত ৬ জঙ্গি। ঘটনার দায়স্বীকার করেছে আইএস। বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, এর পিছনে দুই স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠী আনসার আল ইসলাম ও জামাত উল মুজাহিদিনের হাত রয়েছে। আনসার আল কায়দার প্রতি আনুগত্য দেখায়, জামাতের দাবি, তারা আইএসের প্রতিনিধিত্ব করে।
জানা গেছে, হামলার সময় জঙ্গিরা আল্লা হু আকবর বলে চিৎকার করছিল। বন্দিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভারতীয় বলে খবর। তাঁরা কেমন অবস্থায় আছেন জানা যায়নি।
ইস্তানবুলের বিমানবন্দরে জঙ্গি হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই, বাংলাদেশের রাজধানীতে বন্দুকবাজের হামলা! ঐতিহ্যবাহী হলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি। গ্রেনেড বিস্ফোরণ। বাংলাদেশ প্রশাসন সূত্রে খবর, রাত ৯.১৫ মিনিট নাগাদ আচমকাই রেস্তোঁরায়
হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তোঁরা ঘিরে ফেলে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ দল আরএবি। আসে সেনাও। রাতেই জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায় যৌথবাহিনী। জবাবে জঙ্গিরা ভেতর থেকে চিৎকার করে আত্মসমর্পণের তিনটি শর্ত দেয়। সেগুলি হল-
১. একদিন আগে ডেমরা থেকে আটক জেএমবি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহকে মুক্তি দিতে হবে।
২. তাদের অর্থাৎ রেস্তোঁরায় হামলা চালানো জঙ্গিদের নিরাপদে বার হয়ে যেতে দিতে হবে।
৩. ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাদের এই অভিযান। এই অভিযানকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
এরপরই বন্দুকবাজদের সঙ্গে শুরু হয় বাহিনীর গুলির লড়াই। রেস্তোঁরা চত্বরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায় বলেও বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে খবর। গুলশন এলাকাটি রাজধানী ঢাকার অত্যন্ত অভিজাত এলাকা। একদিকে যেমন বিভিন্ন শপিং মল, মার্কেট কমপ্লেক্স, নামী সংস্থার দফতর, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই এলাকায় রয়েছে, তেমনিই বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালীদের বসবাস গুলশনে। রয়েছে ৩৪টি দেশের দূতাবাস ও বিদেশি নাগরিকদের ক্লাব। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরেই গুলশন ১ নম্বর সেক্টরে রয়েছে ভারতীয় হাই কমিশন। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারতীয় দূতাবাসের সব কর্মীই সুরক্ষিত রয়েছেন। অভিজাত হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর গোটা এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।