The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

ট্রানজিটে ক্ষতির মুখে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা

panjeriডেস্ক ২৪:: ট্রানজিট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা। এখান থেকে রপ্তানি করা বিভিন্ন পণ্য ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারতে নেয়ার কারণে স্থবির হয়ে পড়ছে তাদের ব্যবসায়ীক কার্যক্রম। তাই এই বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয় এমন ২৮টি পণ্য ট্রানজিটের আওতামুক্ত রাখার দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। অথবা সকল পণ্যে ভারতের সঙ্গে দেশের শুল্ক সমন্বয়ের দাবি করছেন তারা।
ট্রানজিট চুক্তির ফলে পণ্য নেয়ার প্রয়োজনে আখাউড়া স্থলবন্দরের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গেছে। তবে পুরোপুরি ট্রানজিট চালু হওয়ার আগে রাস্তা মেরামত কিংবা আশুগঞ্জ-আখাউড়া ৪৫ কিলোমিটার চার লেনের কাজ শুরু করার দাবিও জানান স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে আখাউড়া স্থলবন্দর ঘুরে জানা যায়, সেভেন সিস্টার খ্যাত ভারতের উত্তর-পূর্ব ৭টি রাজ্যে প্রবেশে অন্যতম দ্বার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর। ভারতের আগরতলা এলাকায় নির্মাণ সামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর এ চাহিদার যোগান দিতে এখানকার ব্যবসায়ীরা আগরতলায় ব্যবসায়ের একটি বড় বাজার তৈরি করেছে। তাই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশের নির্মাণ সামগ্রী, পাথর, মাছ, শুটকি, সিমেন্ট, প্লাস্টিক সামগ্রীসহ প্রায় ৩২টি পণ্য ভারতের বিভিন্ন অঙ্গ রাজ্যে রপ্তানি করেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। আর এর সাথে জড়িত রয়েছে কয়েক হাজার শ্রমিক। এতে করে প্রতি মাসে প্রায় তিন কোটি টাকার বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয় আগরতলায়।
বর্তমানে ট্রানজিটের মাধ্যমে আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলবন্দর ব্যবহার করে ১ হাজার ৪ টন রড নিচ্ছে আগরতলায়। ট্রানজিটের কারণে বাংলাদেশ থেকে পণ্য না নিয়ে ভারতের ব্যবসায়ীরা নিজেদের দেশ থেকেই বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য নিচ্ছে। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের শত শত ব্যবসায়ী বেকার হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের দাবি নিয়মিত রপ্তানি হয় এমন পণ্য যদি বাংলাদেশের উপর দিয়ে ট্রানজিটের মাধ্যমে তারা নিতে পারে তাহলে আখাউড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কোনো ব্যবসা থাকবে না। বেকার হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকের।
তারা জানান, নির্মাণ সামগ্রীসহ প্রায় ২৮টি পণ্য ট্রানজিটের আওতার বাইরে রাখার জন্য বিভিন্ন দপ্তরেও আবেদন করেছেন তারা। এছাড়াও আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া স্থলবন্দরের রাস্তার অবস্থাটিও তেমন ভালো না। তাই এই রাস্তাটিও মেরামতের জন্য দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী হাসিবুল হাসান বলেন, ‘ভারতের আগরতলায় আমাদের যেসব পণ্য রপ্তানি হয় সেই পণগুলো যদি তারা ট্রানজিটের মাধ্যমে নিতে পারে তাহলে আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। কারণ আমরা বেশিরভাগই আগরতলায় রপ্তানি করি নির্মাণ সামগ্রী। আর সেগুলোই ভারত ট্রানজিটের মাধ্যমে নিচ্ছে।’
আরেক ব্যবসায়ী মো. আব্বাস উদ্দিন খান বলেন, ‘ভারত নিজেদের পণ্য ট্রানজিটের মাধ্যমে আমাদের দেশের উপর দিয়ে নেয়ার সময় নির্ধারিত হারে কোনো আমদানি শুল্ক দিতে হচ্ছে না। অথচ আমরা যখন তাদের দেশে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করি তখন তাদের নির্ধারিত হারে ৭ থেকে ৩১ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক দিতে হয়। এ অবস্থায় তাদের দেশের সাথে আমাদের দেশের পণ্য পরিবহনের শুল্ক সমন্বয় করা দরকার। অন্যথায় আমাদের দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কম মূল্যে তাদের দেশের পণ্য তারা নিতে আগ্রহী হবে। আর এতে করে আমরা এই এলাকার ব্যাবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবো।’
আখাউড়া স্থল বন্দর আমদানি-রপ্তানি কারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন বাবুল বলেন, ‘আমাদের দেশের সাথে ভারতের ট্রানজিট চুক্তিকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে আমাদের দেশ থেকে যেসব পণ্য ভারতে রপ্তানি হয় সেসব পণ্যগুলো ট্রানজিটের আওতামুক্ত রাখার দাবি করছি। অথবা সকল পণ্যে ভারতের সাথে আমাদের দেশের শুল্ক সমন্বয় করা দরকার। তাহলে প্রতিযোগীতামূলক মার্কেট থাকবে। নতুবা এই এলাকার ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার শ্রমিককে বেকার থাকতে হবে।’

Exit mobile version