২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। শতভাগ অকৃতকার্যের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠান দুটি হলো জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ। শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যাকে এ ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বোর্ডের গড় পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অথচ প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাত্র দুজন এবং বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাতজন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তীব্র শিক্ষক সংকট, একাডেমিক দুর্বলতা, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবের কারণে প্রতিষ্ঠান দুটির ফলাফল এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠান প্রধান আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমাদের কলেজটি শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। আমরা কলেজের এই শাখাটি বন্ধ (ক্লোজ) করে দেওয়ার কথা ভাবছি।’
অন্যদিকে, জিনদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠান প্রধান গোলাম সাদেক বলেন, ‘আমরা ফলাফল ভালো করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থী সংকট তৈরি হচ্ছে এবং ফলাফলও খারাপ হয়েছে।’
নবীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল-মামুন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফল বিপর্যয়ের মূল কারণ শিক্ষকস্বল্পতা। তারপরও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে ফল বিপর্যয়ের কারণ লিখিতভাবে জানতে চাইব। দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ফলাফল বিশ্লেষণ করে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ফলাফল এড়াতে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক তদারকি বাড়ানো এবং শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
