The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is

কুব্বাত আস সাখরা বা ডোম অফ দ্য রক (Dome of the Rock)

কুব্বাত আস সাখরা বা ডোম অফ দ্য রক কোন মসজিদ বা এবাদতখানা নয়। আরবিতে কুব্বাহ হলো গম্বুজ আর সাখরাহ হলো পাথর। বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায়, “পাথরের (উপর নির্মিত) গম্বুজ”; হিব্রুতে বলে কিপ্পা হা-সেলা।

সেকেন্ড টেম্পল বা দ্বিতীয় বাইতুল মুকাদ্দাস রোমানরা ধ্বংস করে দিয়েছিল। রোমানরা সেখানে জুপিটারের মন্দির বানিয়েছিল, সেটির জায়গায় উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক এই ডোম অফ দ্য রক বা কুব্বাতুস সাখরাহ নির্মাণ করেন।

৬৯১ সালে উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক এটি নির্মাণ করেন। এই স্থাপনাটি অষ্টাভুজাকৃতির। এটা মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন। এর নকশা এবং অলংকরণে সমসাময়িক বাইজেন্টাইন স্থাপত্যশৈলী এবং স্বতন্ত্র ইসলামিক ট্র্যাডিশনের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

১০১৫ সালে গম্বুজটি ধ্বংস হয়ে যায় কিন্তু ১০২২-২৩ সালে পুনর্নির্মিত হয়।

১১৮৭ সালে সালাহউদ্দিন জেরুজালেম জয় করার পর কুব্বাত আস সাখরা বা ডোম অফ দ্য রকের উপরের ক্রুশ নামিয়ে সেখানে ক্রিসেন্ট লাগিয়ে দেন।

সুলতান সুলেমান তার রাজত্বকালে (১৫২০-১৫৬৬) এ স্থাপত্যের বাহিরে পুরোটা জুড়ে টাইলস লাগানো হয়। আর ভেতরে লাগানো আছে মোজাইক ও মার্বেল যাতে সুরা ইয়াসিন লিখিত আছে। তার উপরে লেখা হয় সুরা ইসরা বা সুরা বনী ইসরাইল, কারণ সেখানে নবী (সা) এর এই বাইতুল মুকাদ্দাসে আসার কথা লিখিত আছে।

১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের সময় কুব্বাত আস সাখরা বা ডোম অফ দ্য রকের মাথায় ইসরায়েলের পতাকা ওড়ানো হয়। কিন্তু শীঘ্রই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোশে দায়ানের নির্দেশে সেটি নামিয়ে ফেলা হয় এবং এর দায়িত্ব দেয়া হয় মুসলিম সংগঠন ওয়াকফের হাতে। এখনো ওয়াকফের হাতেই এর অধিকার রয়েছে।

১৯৯৩ সালে জর্ডানের বাদশাহ হুসাইন তার একটি বাড়ি বিক্রি করে পাওয়া ৮.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে ৮০ কেজি সোনা কিনে তা দান করে দেন এ কুব্বাত আস সাখরা বা ডোম অফ দ্য রকের জন্য। সেই সোনাই আজ জ্বলজ্বল করে ডোম অফ দ্য রকের গম্বুজে।

আমি আগেই বলেছি কুব্বাত আস সাখরা বা ডোম অফ দ্য রক কোন মসজিদ বা এবাদতখানা নয়। তাহলে এর মধ্যে কি আছে? এরমধ্য আছে একটা পবিত্র পাথর এবং এই পাথরের নিচে আছে একটা গুহা।

এ পাথর হচ্ছে এই পুরো আল হারাম আশ শরীফ বা টেম্পল মাউন্টের অন্তর্গত সবচেয়ে পবিত্র জিনিস।

হাদিসের বর্ণনা মতে, এ পাথরের ওপর ভর রেখে হযরত হযরত মুহাম্মদ (সা) উর্ধ্বারোহণ করেন মিরাজের রাত্রিতে। আর, ইহুদী বিশ্বাস অনুযায়ী, এটির নাম ভিত্তিপ্রস্তর, বা ফাউন্ডেশন স্টোন। হিব্রুতে ডাকা হয় এভেন হা-স্তিয়া। এটিই হোলি অফ দ্য হোলিজ এর অবস্থান বলে বিশ্বাস করা হয়। ইহুদিদের আছে এই পাথরটাই মূল কিবলা। হযরত উমর (রাঃ) এই পাথরটিকে সালাম দিয়ে ছিলেন, “আসসালামু আলাইকুম”; পাথরটি উত্তর দিয়েছিল, “ওয়ালাইকুম আসসালাম”

গম্বুজটির ঠিক নিচে এই পাথরটি। আর পাথরটির দক্ষিণ পূর্ব কোনায় একটা গর্ত আছে। এই গর্ত দিয়ে প্রাকৃতিক এবং মানব সৃষ্ট একটা গুহাতে প্রবেশ করা যায়। এই গুহাটির নাম বির আল-আরুয়াহ বা আত্মার কূপ (Well of Souls); এই গুহার ভিতরে নামাজ পড়ার জায়গা আছে। গুহাটির আয়তন প্রায় ৬৫ বর্গফুট এবং উচ্চতা ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি থেকে ৮ ফুট ২ ইঞ্চি পর্যন্ত।

Exit mobile version