ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার আদালত পুকুরপাড়সংলগ্ন সরকারি জায়গা লিজ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে অর্থকষ্টে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে আদালতের একটি মূল্যবান জায়গা বরাদ্দ নিয়েছেন অজিত সূত্রধর। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নবীনগর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলমনগর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা অজিত সূত্রধর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা জজের কাছে দেওয়া এক আবেদনে উল্লেখ করেন, তিনি চরম অর্থকষ্টে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য নবীনগর সিনিয়র সিভিল জজ (চৌকি) আদালত প্রাঙ্গণের একটি পরিত্যক্ত স্থানে ছোট একটি অস্থায়ী দোকান নির্মাণের অনুমতি চান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য আদালতের পূর্ব-উত্তর কোণে বটগাছসংলগ্ন ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি জায়গা সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে বার্ষিক ৬ হাজার টাকা সেলামিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ২৮ জুন জেলা জজ কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয় এবং ১২ জুলাই সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত নেজারত বিচারকের স্বাক্ষরে বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
তবে বরাদ্দের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। তাদের দাবি, অজিত সূত্রধর এলাকায় একজন প্রতিষ্ঠিত কাঠের ফার্নিচার ব্যবসায়ী। তার মালিকানায় একটি ফার্নিচার কারখানা ও একটি শোরুম রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তার উল্লেখযোগ্য স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তবে এই সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রকৃত অসহায় ও ভূমিহীন মানুষ যেখানে সরকারি সহায়তা পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেন, সেখানে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী নিজেকে অসহায় দাবি করে মূল্যবান সরকারি জায়গা বরাদ্দ পেয়েছেন। তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।
সচেতন মহলের অভিযোগ, আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা ও আবেদনে দেওয়া তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে।
এ বিষয়ে অজিত সূত্রধরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, তদন্তে যদি আবেদনে মিথ্যা তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বরাদ্দ পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
