
নিহতদের চাচি জরিনা বেগম বলেন, দেড় বছর আগে পাশ্ববর্তী ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা জামতলী গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে ছামিউল ইসলামের সাথে জোতি আক্তারের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামীর বাড়িতে মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলো জোতি। এক মাস আগে জোতি স্বামীসহ বাপের বাড়ি বেড়াতে আসে। স্বামী কয়েকদিন থেকে জোতিকে বাবার বাড়ি রেখে চলে যায়। এক সপ্তাহ আগে জোতির স্বামী ছামিউল ইসলাম আবারও শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসে। সোমবার ( ৩মার্চ) সকালে জোতির ছোট ভাই জাহিদ মিয়া (১১) ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায় তার দুলাভাই ঘরে নেই। পরে বড় দুই বোনকে ঘুম থেকে উঠতে ডাক দেয়। তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে জাহিদ আমাকে ডেকে আনে। আমি এসে দেখতে পাই খাটের উপর দুই বোনের মৃতদেহ পড়ে আছে। তাদের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে। তাদের ঘরের আলমারি খোলা । আলমারিতে থাকা অলংকার ও টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে গেছে ছামিউল। তাদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশিরাও ছুটে এসে দেখতে পায় কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা দুই বোনের মৃতদেহ। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহতদের ছোট ভাই জাহিদ মিয়া জানান, তার দুলাভাই দুই বোনকে হত্যা করে আলমারি থেকে টাকা, অলংকার, মোবাইল ও তার দুই বোনের কান ও গলায় থাকা অলংকারও নিয়ে পালিয়ে গেছে। বোনদের হারিয়ে একপ্রকার বাকরুদ্ধ। সে এই হত্যার বিচার চায়।
কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল কাদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধারনা করা হচ্ছে দুই বোনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘাতক স্বামী ছামিউল ইসলাম পালিয়ে গেছে। তাদের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পলাতক ছামিউলকে গ্রেপ্তারের চলছে।