ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় উচ্চচাপের গ্যাস সঞ্চালন লাইনে ছিদ্র করে অবৈধভাবে গ্যাস নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাইপলাইন থেকে বিকট শব্দে গ্যাস বের হতে থাকলে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখে পাইপলাইনটি মেরামত করা হয়। তবে ঘটনার ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক রয়ে গেছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী বায়েক ইউনিয়নের ধোপাখলা, সাগরতলা ও নোয়াপাড়া এলাকার মধ্যবর্তী একটি নির্জন গ্রামীণ সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি চক্র সালদা ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যবর্তী সঞ্চালন লাইনে ছিদ্র করে গ্যাস নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে উচ্চচাপের কারণে সংযোগ স্থাপন করতে না পেরে জড়িতরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে উচ্চচাপে গ্যাস বের হতে থাকায় বিকট শব্দের সৃষ্টি হয়। এতে আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, গ্যাসের সংস্পর্শে আগুনের সূত্রপাত হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, উচ্চচাপের গ্যাস সঞ্চালন লাইনে এ ধরনের অননুমোদিত হস্তক্ষেপ অত্যন্ত বিপজ্জনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং গ্যাস লাইনের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছামিউল ইসলাম বলেন, সালদা-বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। অভিযোগটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) জাহিদুর রেজা জানান, সালদা ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যবর্তী ১০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনটি উচ্চচাপের সঞ্চালন লাইন। ঘটনার সময় এতে প্রায় ৬০০ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, কে বা কারা পাইপলাইনে ছিদ্র করে গ্যাস নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুটি সংযোগের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে বাপেক্স ও বিজিসিএলের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখে পাইপলাইনটি মেরামত করা হয়। এ ধরনের চেষ্টা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) ১৯৯৬ সালে সালদা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৯৮ সালের ২৮ মার্চ এ ক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে তিনটি কূপ থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে সাত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
