রুবেল আহমেদ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া প্রবেশপত্র দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে এসে এক ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তাঁর সহযোগী আটক হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কসবা পৌর শহরের তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন কসবা মহিলা ডিগ্রি কলেজের অকৃতকার্য শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জান্নাত (১৮) এবং তাঁর ফুফাতো ভাই ইনজামামুল হক (১৯)।
পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, তাসফিয়া রহমান জান্নাত তাঁর এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবি ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষার একটি ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করেন। ওই প্রবেশপত্র নিয়ে তিনি তাঁর ফুফাতো ভাই ইনজামামুল হকের সহযোগিতায় পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে আসেন।
পরীক্ষা শুরুর পর প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. আবুল কালাম আজাদের সন্দেহ হয়। পরে তিনি বিষয়টি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা উপ-নিয়ন্ত্রককে জানান। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে বসিয়ে তাঁর প্রবেশপত্রের ছবি পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বোর্ড থেকে জানানো হয়, তাসফিয়া রহমান জান্নাত নামে কসবা মহিলা ডিগ্রি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না এবং উপস্থাপিত প্রবেশপত্রটি সম্পূর্ণ ভুয়া।
এরপর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁর সহযোগীকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে আটকে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম এবং
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির ঘটনাস্থলে যান। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের অভিভাবকদেরও কেন্দ্রে ডাকা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত তাসফিয়া রহমান জান্নাত ও ইনজামামুল হককে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানা পরিশোধ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়িত না হওয়ার মুচলেকা দেওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
কেন্দ্র সচিব ও তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় কোড নম্বর ও পরীক্ষার বিষয়ের সঙ্গে তথ্যের অসঙ্গতি দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা উপ-নিয়ন্ত্রকের সহযোগিতায় নিশ্চিত হই যে এটি ভুয়া প্রবেশপত্র। এরপর উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির বলেন, “ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও তাঁর সহযোগীকে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। তাঁরা ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না বলে মুচলেকা দিয়েছেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, “ভুয়া প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে তারা আটক হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
