কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উপজেলাগুলোর মধ্যে পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর। অন্যদিকে, সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে কসবা উপজেলা। শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায়ও শীর্ষে রয়েছে সদর উপজেলা।
এ বছর জেলায় ১১ হাজার ৫৬৪ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ হাজার ৭৯১ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৩ জন। সামগ্রিক পাসের হার ৪৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৩ জন শিক্ষার্থী।
প্রকাশিত উপজেলাভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৯৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ৭৫৬ জন। পাসের হার ৬৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৭ জন, যা জেলার মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্তির প্রায় ৭৩ শতাংশ।
পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আশুগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলায় ৫৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয়জন।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা আখাউড়ায় ৬০০ জনের মধ্যে ৩৫৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে নাসিরনগর। এ উপজেলায় ৫৪৮ জনের মধ্যে ২৭০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে আটজন।
অন্যদিকে, পাসের হারে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিজয়নগর, সরাইল, নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর ও কসবা। বিজয়নগরে ৬৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ। সরাইলে ৪৯৩ জনের মধ্যে ১৮৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৭ দশমিক ৩২ শতাংশ।
নবীনগরে ১ হাজার ৭৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। বাঞ্ছারামপুরে ৮২৯ জনের মধ্যে ২৮৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৩৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা কসবা উপজেলায় ২ হাজার ১৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৬৪০ জন। পাসের হার ২৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এ উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয়জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার গড় পাসের হার ৪৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ হলেও সদর, আশুগঞ্জ ও আখাউড়া উপজেলায় পাসের হার জেলার গড়ের ওপরে। বাকি ছয়টি উপজেলায় পাসের হার জেলার গড়ের নিচে। বিশেষ করে সদর ও কসবার পাসের হারের ব্যবধান ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ পয়েন্ট।
অন্যদিকে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে সদর উপজেলার ধারেকাছেও নেই অন্য কোনো উপজেলা। জেলার ১৩৩ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯৭ জনই সদর উপজেলার। বিপরীতে সরাইল উপজেলায় কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
