ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা আধুনিকায়নের মাধ্যমে দ্রুত সচল করা এবং কারখানাটির পূর্বনাম ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় এএফসিসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন।
কর্মসূচিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এছাড়া সিএনজি, ট্রাক ও রিকশা মালিক সমিতি এবং আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিবিএর নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন।
মানববন্ধনে শ্রমিক-কর্মচারীরা বলেন, ২০১০ সালের পর থেকে একটি ব্যবসায়ী মহল দেশীয় সার কারখানা বন্ধ রেখে সার আমদানিতে উৎসাহিত করছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে দেশের সার কারখানাগুলো যান্ত্রিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানা বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তারা বলেন, সরকার চাইলে আধুনিকায়নের মাধ্যমে বন্ধ থাকা সার কারখানাগুলো আবার সচল করতে পারে। দেশের সব সার কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা গেলে সার আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমবে এবং দেশের কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ত্রিমুখী সংঘাতের কারণে একসময় বাংলাদেশে সার ও এলএনজি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। এতে সারের দামও বেড়ে যায়। বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে গিয়ে সরকারকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ দেশে তুলনামূলক কম খরচে সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
বক্তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, দেশের জনগণের করের টাকা ব্যয় করে দ্বিগুণ দামে সার আমদানি করার প্রয়োজন কী? ব্যবসায়ীদের স্বার্থের চেয়ে জনগণ ও কৃষকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশীয় সার উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন।
এ সময় বক্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আশুগঞ্জ সার কারখানাকে পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে কারখানাটির পূর্বনাম ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ পুনর্বহালেরও দাবি জানানো হয়।
এএফসিসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর রহমান, কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, অফিসার্স ইউনিয়নের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী জয়ন্তী বিশ্বাস, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোয়াব আলী মুন্সী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির শাহজাহান ভূঁইয়া, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, উপজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহআলম এবং উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ।
মানববন্ধন থেকে ‘শিল্প বাঁচাও, কর্মসংস্থান বাঁচাও, কৃষি বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’, স্লোগান দেওয়া হয়। বক্তারা দ্রুত আশুগঞ্জ সার কারখানা আধুনিকায়ন করে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
