
১৯৫২ সালে লাকসাম স্কুল থেকে ভাষা-আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে বহিষ্কার করেন। সভায় আলোচনা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আহ্বায়ক আবদুন নূর, অধ্যাপক মিজানুর রহমান শিশির, উদীচী জেলা সংসদের সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ ভূঞা, মহিলা পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাথী চৌধুরী, উদীচী জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম স্বপন, তিতাস আবৃত্তি সংসদের পরিচালক মনির হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা নেতা কমরেড নজরুল ইসলাম কৃষি ব্যাংকের অফিসার রতন লাল দে, উদীচী সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সোহেল। বক্তারা বলেন, নিকট অতীত থেকে অধিকাংশ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্মমৃত্যু বার্ষিকী পালনের পেছনে পুঁজি, লভ্যাংশ, উৎপাদিত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা জড়িত। কিন্তু আমরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আজ এখানে সমবেত হয়েছি। তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও ভালো লোক ছিলেন না। সবার কাছে যিনি ভালো তিনি দালাল ও প্রতারক। তিনি দুর্নীতিবাজ, চাটুকার, রাজাকার ও ইতিহাস বিমুখ মানুষদের প্রকাশ্যে সমালোচনা করতেন। তথাকথিত প্রগতিশীল সংস্কৃতি কর্মীদের ভন্ডামি ও কর্মবিমুখতাকে সহ্য করতেন না। ফলে ভন্ডরাজনীতিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা তাকে সহ্য করত না। তিনি মৃত্যুর আগে বলে গেছেন, আমার এক সন্তান মুক্তিযুদ্ধের শহিদ স্মৃতি পাঠাগার। তোমরা তাঁকে বাঁচিয়ে রেখো। কিন্তু আমরা তাঁর কথা রক্ষা করতে পারছি না। আসুন শপথ করি, এ পাঠাগারের বইগুলোর চেতনা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘরে ঘরে পাঠাগার আন্দোলন গড়ে তুলি। সভায় বক্তারা আরো বলেন, বগুড়া শিয়া মসজিদে গুলি করে মানুষ হত্যা এবং বাংলাদেশে মানবতা বিরোধীদের ফাঁসির জন্য পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।