
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকার রাজপথে নামে ট্যাংক ও সাঁজোয়া গাড়িবহর। ঘুমন্ত বাঙালির ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সংঘটিত হয় মানব-ইতিহাসের ঘৃণ্যতম গণহত্যা। বঙ্গবন্ধুকে গভীর রাতে তার ধানম-ির ৩২ নাম্বারের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আগেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে একটি বার্তা পাঠাতে সক্ষম হন। বার্তায় তিনি বলেছিলেন, ‘আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র। একে যে রকম করেই হোক শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।’ ইপিআরের (পরে যা বিডিআর হয়) ওয়্যারলেস থেকে তার এ ঘোষণা প্রচারিত হয়েছিল। পরে চট্টগ্রামে অবস্থানরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা তার পক্ষে বেতারে পাঠ করলে দেশবাসী স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হওয়ার বিষয়টি জানতে পারে।
বাঙালি বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের নির্দেশনামতো যার যা আছে তা নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে। গঠিত হয় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার। তাদের নেতৃত্বে ধীরে ধীরে সংগঠিত রূপ নেয় মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাস পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যা-নির্যাতন, লুণ্ঠন, ধ্বংসযজ্ঞ এবং এর বিরুদ্ধে বাঙালির মরণপণ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় চিরকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশেরই কিছু লোক বিশ্বাসঘাতকতা করে হাত মিলিয়েছিল পাকিস্তানি ঘাতকদের সঙ্গে। তারা অংশ নিয়েছিল গণহত্যা, নারী নির্যাতন, লুটতরাজের মতো অপরাধে।
dav
আজ সরকারি ছুটির দিন। সারাদেশের মত ব্রাহ্মণবাড়িয়াও জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অসংখ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে স্বাধীনতা দিবস। ভোর থেকেই আজ স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামবে।
~
সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ছাড়াও সব সড়ক ও সড়কদ্বীপ সাজানো হয়েছে জাতীয় পতাকা ও রঙিন পতাকায়। গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে থাকছে আলোকসজ্জা।
দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। হাসপাতাল, সরকারি শিশু সদন ও এতিমখানা এবং কারাবন্দিদের দেয়া হবে উন্নত খাবার।