ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের নতুন ঘোষিত আংশিক কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। ঘোষিত কমিটিকে ‘মনগড়া ও বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে পৌর শহরের সড়ক বাজারে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন পদবঞ্চিত উপজেলা ছাত্রদল নেতা তারেকুল ইসলাম রিফাত ও মায়েদুল ইসলাম শাওনসহ অন্যরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১ নভেম্বর) জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান শাহীন ও সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তীর যৌথ স্বাক্ষরে আখাউড়া উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত উপজেলা কমিটিতে মোবারক হোসেনকে সভাপতি, শাহ আলমকে সিনিয়র সহসভাপতি এবং রাকিবুল ইসলাম জাকারিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। অন্যদিকে পৌর ছাত্রদলের কমিটিতে শাকিল খানকে সভাপতি ও পায়েল খানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়।
সমাবেশে তারেকুল ইসলাম রিফাত অভিযোগ করেন, জেলা ছাত্রদল কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই রাতের আঁধারে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে এ কমিটি গঠন করেছে। আন্দোলন-সংগ্রামে কমিটির অনেকের কোনো ভূমিকা ছিল না। একটি মহলের স্বার্থ রক্ষা ও অর্থের বিনিময়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, তাঁরা এ পকেট কমিটি মানেন না।
মায়েদুল ইসলাম শাওন অভিযোগ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ মুশফিকুর রহমানকে অন্ধকারে রেখে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানি এবং তাঁর বড় ভাই জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ কবির আহমেদ ভূঁইয়ার নির্দেশে জেলা ছাত্রদল এ কমিটি ঘোষণা করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের কঠিন আন্দোলন ও নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে পদবঞ্চিত করা হয়েছে।
সমাবেশ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কিত কমিটি স্থগিতের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ও রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
