Main Menu

শিল্প- সাহিত্যি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ

+100%-
মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ একজন বহুমুখী প্রতিভাধর ব্যক্তিত্বের অধিকারী। একাধারে কবি-সাহিত্যিক, গায়ক, সুরকার, শিল্প ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও তিনি একজন সমাজসেবক ও সংগঠক। কৈশোরকালে মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ অত্যান্ত মেধাবী ও জ্ঞান পন্ডিত্বের অধিকারী ছিলেন। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময়ই ছবি আঁকা, গান গাওয়া ও কাব্য রচনার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। শৈশবে ছবি এঁকে বাড়ীর দেয়ালে টানিয়ে রাখতেন। গ্রামে কোন বিবাহের অনুষ্ঠান হলে মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ বর বরণের জন্য বিভিন্ন ভাবে ফটক তৈরী করতেন এবং মেয়েদের রুমাল, কাপড় ইত্যাদিতে নানা রকমের নকসা এঁকে দেওয়ার জন্য তখনকার সময়ে অনেক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। সাহিত্যে ও সংস্কৃতিচর্চার প্রভাব তাঁর পারিবারিক কারনে রয়েছে। মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ-এর বড় ভাই বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি, সাহিত্যিক ও নজরুল গবেষক মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ’র সান্নিধ্যে কবিতা ও সাহিত্যে চর্চ্চার প্রতি আকৃষ্ট হন। লিখনীর বহুক্ষেত্রে তাঁর মেধার জ্যোতির্বলয় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি পত্র-পত্রিকায় অসংখ্য কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও রম্য-রচনা লিখেছেন।
মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ-এর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘ফেলে আসা একাত্তর ও মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো’ (স্মৃতিচারণ), প্রকাশতব্য গন্থ্যগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্তমান সংস্কৃতি ও পদচারণ’ (সংস্কৃতি), ‘অতীত দিনের স্মৃতি’ (স্মৃতিচারণ), ‘বিধাতার খুঁজে’ (কবিতা), আহসানউল্লাহ ফরিদ-এর ভাদুঘরের বান্নি দেখা’ (স্মৃতি কথা), ‘সঞ্চয়’ (কবিতা), ‘অব্যক্ত প্রেমবিলাস’ (রম্য রচনা) উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও তিনি প্রায় দুই হাজার কবিতা ও তিনশত পঞ্চাশটি গান রচনা করেন। তাঁর বহুৎ গান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়েছে। নিজেও বহু আসরে গান গেয়ে গুণী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রসংশার আসনের স্থান দখল করে নেন। তারপর ও তিনি সব সময় রয়েছেন প্রচার বিমূখ। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে তাঁর উত্থাপিত প্রস্তাবে ও গ্রামবাসীর সহযোগীতায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ভিক্তিক একটি প্রমাণ্যচিত্র নাটক “সোনার বাংলা” মঞ্চস্থ হয়। মঞ্চায়িত নাটকটি দেখার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পশ্চিশ অঞ্চলে দর্শক হৃদয়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। ক্রিড়াপ্রেমী মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ ফরিদ খেলাধূলার প্রতিও ছিলেন দারুণ আসক্ত। বিশেষ করে ক্রিড়াপ্রেমী মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ ফরিদ ফুটবল খেলায় দারুন কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৬৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা ফুটবল লীগের ফাইনাল খেলায় তালশহর এ এ আই উচ্চ বিদ্যালয়ের সাথে মুখোমুখি হয় শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের। প্রতিপক্ষের মুহুমুহু আক্রমনে তালশহর হাই স্কুলের ডিফেন্স যখন তছনছ তখন কয়েক বার গোল রক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয়। খেলা শেষ হওয়া মিনিট কয়েক আগে নিশ্চিত গোল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে গোল রক্ষক মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ বল ফিরিয়ে দিলে কাউন্টার এ্যাটাকে গোল পেলে যায় তালশহর হাই স্কুল। ঐ এক গোলেই মহকুমা চ্যাম্পিয়নশিপ লোফে নিয়েছিল তালশহর হাই স্কুল। ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন তিনি।
মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ ১৯৫৩ সালে ৩১শে জানুয়ারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার কৃতি-সন্তানদের খনি নাওঘাট গ্রামে ঐতিহাসিক ডিপুটি বাড়িতে জন্ম গ্রহন করেন। বাবা আব্দুল আওয়াল ব্রিটিশ পিরিয়ডে আড়াইসিধা উত্তর (বর্তমান আশুগঞ্জ সদর) ইউনিয়ন বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সরকারের জুরি ও সালিশি বোর্ডের সদস্য এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের গভার্নিং বোডির সদস্য, তালশহর এ এ আই উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন। মা লুসিয়া খাতুন ছিলেন গৃহিণী। সংসারিক কাজে ফাঁকে ফাঁকে নিপুণ হাতের (নকশিকাথাঁ) কাজ করতেন। তিনি খুব বেশী লেখাপড়া না জানলেও সব সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলেন এবং সমাজে একজন রত্নগর্ভা মা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এই পরিবারের শতভাগ উচ্চ শিক্ষিত এবং নাতি নাতনিরা প্রফেসর, ব্যাংকার, প্রকৌশলী। তাদের অনেকেই লন্ডন, আমেরিকাতে বসবাসরত। মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ এর মেজু ভাই মোহাম্মদ হাবিবউল্লাহ ছিলেন বাংলাদেশ অডিট অধিদপ্তরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তৃতীয় ভাই মোহাম্মদ নাসিরউল্লাহ ছিলেন সোনালী ও জনতা ব্যাংকে সাবেক মহাব্যবস্থাপক। সমাজ বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও চট্রগ্রাম আর্ন্তজাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যলয়ের সাবেক উপচার্য ড. মোহাম্মদ মাহবুবউল্লাহ ছিলেন ভাইদের মধ্যে চতুর্থ। তাঁর বড় চাচা আব্দুর রহিম ১৯২৫ সালে ব্রিটিশ -ভারতের ত্রিপুরা (তদানিন্তন) জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার পশ্চিম অঞ্চলের ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে প্রথম ডিপুটি ম্যাজিস্টেট হিসেবে ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপদস্থ চাকুরীতে যোগদেন। বড় ভাইয়ের ছেলে মুকসুদ জামিল মিন্টু প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। তিনি এনটিভি’র প্রধান মিউজিক ডিরেক্টর। মেজু ভাইয়ের একমাত্র ছেলে শাহনেওয়াজ রহমতউল্লাহ রুমেল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। ওয়ান ইলেভেনের কঠিন পরিস্থিতেও সংগঠনের সুদক্ষ নেতৃত্বদানে অসীম সাহসিকতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। সৌঠাম দেহের অধিকারী সুদর্শন, নম্র, ভদ্র ও পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতা হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অভাবনীয় উন্নয়নের রূপকার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেতা র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর অত্যন্ত স্নেহধন্য ও বিশ্বাস্ত ছিলেন। ২০১১ সালে তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের এমপি প্রয়াত জননেতা লুৎফুল হাই সাচ্ছুর আকস্মিক মৃত্যুবরণের পর উপ-নির্বাচনে নবনির্বাচিত আওয়ামী লীগ নেতা র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এম.পির সফর সঙ্গী হয়ে ২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করে ঢাকায় ফেরার পথে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার সলিলদিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শাহনেওয়াজ রহমতউল্লাহ রুমেল-সহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের ১২ জন মেধাবী ছাত্রনেতা নিহত হন। মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ পড়ালেখার পাঠ গ্রহণ শুরু করেন নাওঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৬৯ সালে তালশহর এ.এ.আই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এসসি পাস করেন। ১৯৭২ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে সম্মানের সাথে আই.এ পাস করেন। মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের ১ম ব্যাচের ছাত্র। তিনি ছাত্রাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৭৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার অধ্যায় সমাপ্তি করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়ালেখার সময় সেখানে গড়ে তোলেন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান “উত্তরা কৃষ্টি সংসদ” যার সভাপতি ছিলেন সুনাম ধন্য প্রাক্তন পাট মন্ত্রী হাবিবউল্লাহ খাঁন। ১৯৭০ সালে ততকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) বরিশাল, পাটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্রগ্রাম, বরগুনা, ভোলাসহ দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় গোর্কি নামের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লাখ মানুষ মারা যায়। নষ্ট হয় শত কোটি টাকার সম্পদ। মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র-শিক্ষক পরিষদের ব্যানারে বরিশাল ও পাটুয়াখালী ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রান সামগ্রিক বিতারণে জন্য তহবিল সংগ্রহ ও স্থানীয় ভাবে বিতারণে অংশগ্রহণ করেন।
মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ ঠিকাদারির সুবাদে ১৯৮২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া আবহমান কাল থেকে সংস্কৃতির পাদ পিঠ। এখানে গড়ে উঠেছে শিল্প ও সংস্কৃতির স্থাপত্য নির্দেশন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসে তাঁর পুষে রাখা শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিক বিকাশের সাথে উৎপ্রেত ভাবে জড়িয়ে পড়েন। ততকালীন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রফেসর হারুন অর রশীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যাপক কবি আসাদ চৌধুরী, ওস্তাদ ওমেশ বাবু, সাংবাদিক  মোহাম্মদ মুসা, বীর মুক্তিযুদ্ধা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গায়ক ফিরোজ আহম্মেদ। সমটত বার্তার সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম, দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনে সভাপতি আব্দুল মান্নান, কবি জয়দুল হোসেন, ফটোগ্রাফার প্রাণতোষ দা, তবলা বাদক (আমেরিকা প্রবাসী) তপন মোদক, গায়ক মাসুদ আহম্মেদ, গায়ক রাশেদুল হাসান মিন্টু, চিত্রশিল্পী নিজামুল ইসলাম, গায়িকা সন্ধ্যা রায়, গায়িকা পারভিন, গায়িকা সুমিত্রা সূত্রধর, গায়িকা পাপিয়া, নিত্যশিল্পী পাপড়ী পাল, তিতাস বার্তার সম্পাদক আবদুল মতিন শানু, সাংবাদিক আলী আফজাল, সাংবাদিক বিটু, কবি মিলি চৌধুরী-সহ প্রমূখদের সাথে হাত মিলিয়ে গড়ে তুলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, শিল্প সংস্থা, নাট্য সংস্থা, কঁচি কাঁচার মেলা, কমল কলি, ট্রেডিশনাল ট্র্যাক সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাহিত্যে একাডেমী ও দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন বর্ধিত করণসহ যুব লেখক পরিষদ নামে আরো একটি সংগঠন গড়ে তুলেন। এছাড়াও তিনি আরো চারটি সপ্তাহিক ও ত্রি-মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন তার মধ্যে বলিতে ব্যাকুল, তিতাস, তিতাস বার্তা ও সেবক ইত্যাদি। তিনি ঢাকাস্থ আবহমান তিতাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্পোর্টিং ক্লাব, ঢাকাস্থ নাওঘাট কল্যাণ সমিতি, নাওঘাট উদয়ন সংসদ, নাওঘাট  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাওঘাট মধ্যপাড়া জামে মসজিদ সহ বহু প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ঢাকাতে মন্দিরা শিল্পী গোষ্ঠী ও সুরের বাঁধন নামে আরো দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তুলেন এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। অনাত্থ শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশু উন্নয়ন সংস্থা মগবাজার ঢাকা’র  প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারন সম্পাদক ও ৩ বছর ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল ছিলেন। মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ কর্মজীবনের শুরুতে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ১ম শ্রেণীর ঠিকাদার ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে কর্মরত ছিলেন। বর্তামানে তিনি রূপালী ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে দাবি বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক এমপি প্রয়াত নেতা এ্যাড. লুৎফর হাই সাচ্ছুর ঘনিষ্ট আত্মীয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপমন্ত্রী এ্যাডঃ হুমায়ূন কবীর , প্রখ্যাত আইন প্রনেতা ব্যারিস্টার মোজাম্মেল হক ভঁইয়া এফসিএ , সাবেক সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রাবিয়া ভূঁইয়া, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী আবুল বায়েস, সাবেক উপ-সচিব (ওয়াসা) মহিউদ্দিন আল মাহমুদ-এর বিশ্বাস্থ ও ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে সামাজিক ও গ্রামীন উন্নয়নের বহু কাজে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৪ সালে নাওঘাট-খাকচাইল সড়ক। ১৯৮৩ সালে নাওঘাট আব্দুর রউফ ভূঁইয়া দাখিল মাদ্রাসা। ১৯৮৩ সালে নাওঘাট গ্রামে বিদ্যুৎ আনায়ন। ১৯৭৪ সালে কৃষি সম্প্রসারণের জন্য ডিপটিউবল বসানো সহ জনহিতকর বহু কাজের উদ্যোগতা ও রূপকারদের সহযোগী হয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তিনি এসব জনকল্যাণ মূলক কাজের জন্য সব সময় মানুষের প্রসংশা কুঁড়িয়েছেন। মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ ঢাকা ইউনিভার্সিটি পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন এলামনাই এসোসিয়েশন (DUPAAA)’র সম্মানিত সদস্য। তাঁর কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ new’s Valley 24.com বিশেষ সম্মাননা-(২০১৪) প্রদান করেন। সাংস্কৃতিক সংগঠন সুরে বাঁধনের সভাপতি হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে 7 Wonder’s থেকে গুণীজন সম্মাননা (২০১৫) সহ আরো অনেক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মাননা গ্রহন করেন।
মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদ ব্যক্তি জীবনে তিনি বর্তমানে ঢাকার শান্তিবাগে স্ত্রী ও দুই পুত্রকে নিয়ে বসবাস করছেন। তাঁর স্ত্রী মিসেস আইরিন আখতার বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অধীনে ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মরত আছেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রী ছিলেন । আইরিন আখতারও একজন অসাধারণ সাহিত্যপ্রতিভার অধিকারী। তিনিও লেখালেখিতে বেশ স্বযশী। তাঁর জেষ্ঠ্যপুত্র মোহাম্মাদ শফিউল্লাহ আদনান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এল.এল.বি ও এল.এল.এম সম্পূর্ণ করে বর্তামানে ঢাকার দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগের প্রভাষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ৩৬তম বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তরে সহকারি পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন এবং তিনিও বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন। মোহাম্মদ আহছানউল্লাহ ফরিদের কনিষ্ঠ পুত্র মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ আরমান বর্তামানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাস (বি ইউ পি )-এ ইংরেজী বিভাগে অধ্যায়নরত। সবাইকে নিয়ে তিনি খুবই সুখী।
লেখক: লোক-সাহিত্যনুরাগী,রাজনীতিক কর্মী ও সংগঠক





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares