Main Menu

বাবা দিবসে আমার ভাবনা !

+100%-

তাজুল ইসলাম (হানিফ): বাবাকে হারিয়েছি সেই ২৯ বছর পুর্বে। বাবার আদর ভালবাসা স্নেহ দোয়া কিংবা  বায়না ধরা আমার কাছে পুরোপুরি অপরিচিত। কেননা, এগুলোর স্বাদ কিংবা গন্ধ নেওয়ার কোনটির সুযোগ-ই হয়নি ! আমার অতি কাঁচা বয়সে,বাবা চলে যান এক অচেনা দেশে ! যেখান থেকে কেউ আর ফিরে আসে না কিংবা চাইলেও ফিরে আসতে পারে না ! ! !

আজ রবিবার বাবা দিবস। এনসাইক্লোপেডিয়া থেকে জানা গেছে, জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বের প্রায় ৭৪টি দেশে বাবা দিবস পালিত হয়। পৃথিবীর সব সন্তানরা আজ নিজেদের মত ভালবাসবে তাদের বাবাকে। বাবা দিবসে আমার প্রয়াত বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও অশেষ ভালবাসা।

বাবা মানে,,, শত আবদারের এক অদ্ভুত ভান্ডার,,,বাবা মানে,,, ভয় কিসের ! আমিতো আছি তোর সাথে,,, বাবা মানে নিজে কৃপণতা করে সন্তানের জন্যে দু’টু টাকা রেখে দেয়া,,, বাবা মানে,,,শত শাসনের পরেও নিরন্তর ভালবাসা,,, বাবা মানে,,,শত অভাব অনটন থাকা সত্বেও সন্তানকে তা বুঝতে না দেয়া,,, বাবা মানে,,,সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পরেও হাসি-মুখে বাড়িফেরা,,, বাবা মানে সন্তানের জন্যে অসম্ভব এক নির্ভরতার স্থান,,, বাবা মানে,,, তুই-ই করবি জয়,,, বাবা মানে,,, শত বাধা বিপত্তিতে সন্তানকে আগলে রাখা,,, এক কথায় : বাবা মানে,,, চাওয়া পাওয়ার এক মহা _সিন্দুক!
বাবা তো বাবাই। যার কারণে এই পৃথিবীর রং, রূপ ও আলোর দর্শন। সেই বাবা শব্দটির সঙ্গেই অপার স্নেহ আর মমতার মিশেলে এক দৃঢ় বন্ধনে জড়িয়ে থাকি আমরা। একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে প্রিয় এবং সর্বাধিকবার উচ্চারণ করতে হয় যে শব্দগুলো তার মধ্যে “বাবা” অন্যতম।
:
ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ই জুলাই, আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় এই দিনটি প্রথম পালিত হয়। আবার, সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক ভদ্রমহিলার মাথাতেও পিতৃ দিবসের আইডিয়া আসে। যদিও তিনি ১৯০৯ সালে, ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে, সেই পুরোহিত আবার মা’কে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর, অর্থ্যাৎ ১৯শে জুন, ১৯১০ সালের থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন।
:
পিতৃ দিবস বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো! আসলে মা দিবস নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাতো, পিতৃ দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাতো না, বরং বাবা দিবসের বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়, ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে পিতৃ দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন পিতৃ দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার পিতৃ দিবস হিসেবে পালিত হয়
:
আপাত দৃষ্টিতে অনেকের কাছেই মা দিবস বা পিতৃ দিবস পালনের বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব পায় না। তাই বলে এ ধরনের দিবসগুলো একেবারেই যে অপ্রয়োজনীয়, তেমনটা কিন্তু মোটেও বলা যাবে না। সন্তানের জন্য বাবার ভালোবাসা অসীম। মুঘল সাম্রাজ্যরের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছেন। তিনি সন্তান হুমায়ুনের জীবনের বিনিময়ে নিজের জীবন ত্যাগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। এমন স্বার্থহীন যার ভালোবাসা, সেই বাবাকে সন্তানের খুশির জন্য জীবনের অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়। পিতৃ দিবসে সন্তানদের সামনে সুযোগ আসে বাবাকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানানোর।

তাছাড়া পিতৃ দিবস পালনের ফলে সমাজে এবং পরিবারে বাবাদের যে অবদান তা যে সমাজ এবং নিজের সন্তানরা মূল্যায়ন করছে, এ বিষয়টিও বাবাদের বেশ আনন্দ দেয়। তাছাড়া অনেক সন্তানই আছে, যারা পিতা-মাতার দেখাশোনার প্রতি খুব একটা মনোযোগী নয়। মা দিবস বা বাবা দিবস তাদের চোখের সামনের পর্দাটি খুলে ফেলে পিতা-মাতার প্রতি তার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে তাই বলা যায়, পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে মা দিবস বা বাবা দিবসের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। মোটকথা আমাদের পরিবার তথা সমাজে পিতার যে গুরুত্ব তা আলাদাভাবে তুলে ধরাই পিতৃ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য।

লেখক :

মোঃ তাজুল ইসলাম (হানিফ) , বিএসএস (অনার্স), এমএসএস (রা.বি), এলএলবি।
শিক্ষক——সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় (অনার্স কলেজ), কসবা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares