Main Menu

বিবর্ণ প্রচার, তবু ভোট দেওয়ার আর্জি হাসিনার-আনন্দবাজার

+100%-

ডেস্ক ২৪:গণতন্ত্র নেই, এই অভিযোগ করে বাংলাদেশে রবিবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া। আবার আজই সরকারি টেলিভিশন-বেতারের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করলেন, ‘গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতেই’ এই নির্বাচন করতে হচ্ছে তাঁকে। তবে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে এক জন করে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতে জিতে যাওয়ায় রবিবার ভোট হচ্ছে মাত্র ১৪৭টি আসনে। আর সেখানেও আজ প্রচারের শেষ দিন হওয়া সত্ত্বেও তেমন জৌলুস নেই।
বিএনপি ও তার জোটসঙ্গী জামাতে ইসলামি এই ভোট বাতিলের দাবিতে লাগাতার অবরোধের ডাক দিয়েছে। নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে সেনা মোতায়েন থাকায় দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া জনজীবনে সে অবরোধ কোনও ছাপ ফেলেনি। কিন্তু তার পরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আশঙ্কা রয়েই গিয়েছে, ভোটের দিন না তারা বড় কিছু ঘটিয়ে বসে।
প্রধানমন্ত্রী হাসিনা অবশ্য তাঁর বক্তৃতায় তেমন কোনও আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে সকলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০০৬-এ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা দখল করে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই তিনি অনির্বাচিত শক্তির হাতে ক্ষমতা ছাড়েননি। হাসিনার কথায়, মানুষ তাঁকে নির্বাচিত করেছিলেন দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে। সেই লক্ষ্যেই সংসদের মেয়াদ ফুরোনোর আগে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা দেখেছেন, বিএনপি-কে নির্বাচনে আনতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। ২০১০ থেকে আমাদের সেই আন্তরিক চেষ্টার পরেও তারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেনি।” হাসিনা অভিযোগ করেন, বিএনপি পাঁচ বছর ধরে সংসদ বয়কট করেছে। নির্বাচনেও অংশ না নিয়ে নাশকতা চালিয়ে বাঁকা পথে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে তারা। বিরোধী শক্তির সে চেষ্টা প্রতিহত করে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে দেশবাসীকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী।
উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে হাসিনা দাবি করেন, কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিরও বেশি কাজ করেছে তাঁর সরকার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “অঙ্গীকার অনুযায়ী ১০ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় হয়েছে। তা কার্যকরও করা
হচ্ছে। আগামী বার সরকারে গিয়ে আমরা বাকিদের বিচার ও রায় বাস্তবায়ন করব।”
নির্বাচনী প্রস্তুতির সবিস্তার রিপোর্ট দিতে এ দিন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কাছে যান ছয় নির্বাচন কমিশনার। রাষ্ট্রপতির বাড়ি বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবুদ্দিন আহমেদ জানান, সেনা মোতায়েনের ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বেশি দিন সেনাবাহিনীকে মোতায়েন রাখা হতে পারে। তিনি দাবি করেন, বিরোধীদের অবরোধে ভোটারদের ভোট দিতে কোনও সমস্যা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আশ্বাস ও আহ্বানের পরেও কার্যত একপেশে এই নির্বাচনে মানুষ কি ভোট দিতে যাওয়ার উৎসাহ পাবেন? আপাতত সব চেয়ে বড় প্রশ্ন এটাই।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares