Main Menu

দেশের এক তৃতীয়াংশ শিশু ক্ষুধার্ত পেটে ঘুমোয়

+100%-

ডেস্ক :: খাদ্যদ্রব্যের আকাশ ছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির দরুণ বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ শিশু নিয়মিত ক্ষুধার্ত পেটে ঘুমোতে যায়। এই তালিকায় আরো রয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। বিশ্বে স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজনের শিশুর অর্ধেকের অবস্থান এ অঞ্চলে।

সম্প্রতি দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী জেসমিন হুইটব্রেড ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি অনলাইন সংবাদ সংস্থাকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘এটা ভাবতেই অবাক লাগে, এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতের প্রায় অর্ধেক শিশুর সার্বিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।’

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া এবং পেরুতে শিশুদের অপুষ্টির ওপর একটি জরিপ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন হুইটব্রেড।

তিনি জানান, জরিপে দেখা গেছে, খাদ্যদব্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে অভিভাবকরা তাদের শিশুদের জন্য প্রয়োজনের চেয়ে কম খাবার কিনছেন বলে জানিয়েছেন। এমনকি কখনো তারা পুরো দিন না খেয়ে পার করে দিচ্ছেন।

পরিচালিত জরিপে উপরোক্ত পাঁচটি দেশে উল্লেখ্যযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে অ্যা লাইফ ফ্রি ফর হাঙ্গার প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, এই সুফলের ভাগিদার সমানভাবে সবাই হচ্ছে না। প্রতি বছর ২৬ লাখ শিশুর মৃত্যুর অন্যতম কারণ দেখা যাচ্ছে অপুষ্টি। এক তৃতীয়াংশ শিশুমৃত্যুর কারণ দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে ডায়রিয়ার মতো নিরাময়যোগ্য রোগ-ব্যাধি।

এর মধ্যে সৌভাগ্যক্রমে যারা বেঁচে থাকছে তারা বেড়ে উঠছে যথেষ্ট শর্করা, আমিষ, ভিটামিন এবং খনিজ গ্রহণ করতে না পেরেই। এর মানে হচ্ছে, শিশুদের মস্তিষ্ক এবং দৈহিক বিকাশ সেভাবে হচ্ছে না এবং তাদের সার্বিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। শারীরিক, শিক্ষাগত এবং অর্থনৈতিক যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে তারা।

এসব থেকে উত্তরণে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন হুইটব্রেড। সেই সঙ্গে গর্ভধারণের পর থেকে শিশুর দ্বিতীয় জন্মদিন পর্যন্ত এক হাজার দিনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। এই সময় শিশু ও মায়ের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি।

সেভ দ্য চিলড্রেনেরে প্রধান নির্বাহী আরো বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে শিশু যদি অব্যাহতভাবে অপুষ্টিতে ভোগে তাহলে তার প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদি। সে কারণে এর প্রভাব পড়বে শিশুর মেধা এবং দৈহিক বিকাশে। এই মুহূর্ত থেকেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। আর এটা খুবই সহজে এবং কম সময়ের মধ্যেই করা সম্ভব।’

এদিকে আফগানিস্তান, শ্রীলংকা, ভূটান এবং নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ শিশুর সার্বিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার একটা দুষ্টচক্রে আবদ্ধ। এসব দেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই সমস্যা বয়ে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে ২৫ ভাগ শিশুই কম ওজন নিয়ে জন্মায় বা তাদের জন্মকালীন ওজন আড়াই কেজির কম হয়। শিশুর সার্বিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার ভবিষ্যত নির্ধারণের জন্য এই উপাত্তই যথেষ্ট। সাব-সাহারান আফ্রিকাতে এই সমস্যা রয়েছে ১২ শতাংশ।

তবে অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের প্রশংসা করেছেন হুইটব্রেড।

তিনি বলেছেন, একটা দুর্বল ভিত্তি থেকে শুরু করলেও অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুমৃত্যু হার কমিয়ে ভারতের তুলনায় দ্রুত অগ্রগতি দেখিয়েছে এই দুই দেশ।

তবে ভারতের ব্যাপারে অনেকখানি হাতাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। ভারতে যথেষ্ট খাবার না পাওয়ার কারণে সমস্যা কবলিত শিশুর সংখ্যা রীতিমতো ভড়কে দেওয়ার মতো।

তিনি বলেন, ‘গম ও চাল উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বে ভারত দ্বিতীয় বৃহত্তম অথচ এমন দেশে আপনি অনেক শিশু পাবেন যারা যথেষ্ট খাবার পাচ্ছে না।’

গত মাসে একটি জরিপে পাওয়া গেছে, ‘ভারতে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪২ শতাংশ শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজনের। অথচ এই দেশে গত পাঁচ বছরে গড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।’

বাল্য বিয়ের মতো লিঙ্গ বৈষম্যমূলক সংস্কৃতি পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত শিশুর উচ্চ হারের জন্য দায়ী বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম বলে মন্তব্য করেছেন হুইটব্রেড।

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘প্রায়ই দেখা যায় একেবারে বাল্য বয়সে একটা মেয়ে গর্ভধারণ করছে। সুতরাং আপনি শিশুদের গর্ভে নতুন শিশু জন্মের একটা ধারা দেখতে পাচ্ছেন। এটা তো উন্নয়ন ও প্রগতির ধারা হতে পারে না।’

সবশেষে লিঙ্গ বৈষম্য ইস্যু, নারীর ক্ষমতায়ন এবং মেয়ে শিশুর প্রতি সমাজের এবং পরিবারের আচরণ শিশুর অপুষ্টি সমস্যা মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণ করে দেবে বলে মনে করেন সেফ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী হুইটব্রেড।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares