Main Menu

নবীনগরে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পরেছে সাধারণ মানুষ

+100%-

মিঠু সূত্রধর পলাশ,নবীনগর প্রতিনিধি:  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে গ্রাম্য অধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে প্রতি বছরই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব সংঘর্ষের নেতৃত্ব দেন এলাকাল ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান সরকার বাড়ির গোষ্টির হয়ে ও আজইরা বাড়ীর গোষ্টির নেতৃত্ব দেন এলাকার সর্দার কাউছার মোল্লার। তাদের নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত এলাকাটিতে ৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।অসংখ্য লোক পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সর্ব শেষ গত ১২ এপ্রিল দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশত লোক আহত হন।
ওইদিন করোন পরিস্থীতিতে বাড়িতে আসা রিকশাচালক মোবারক মিয়ার (৪৫) একটি পা কেটে কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে পৈশাচিকভাবে আনন্দ করে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর আহত মোবারক ঘটনার চার দিন পর গত ১৫ এপ্রিল মোবারক মারা যান।
গত ১২ এপ্রিল রোববার সংগঠিত লোমহর্ষক বর্বর এ ঘটনায় জড়িত ক’জনের নাম ঘটনার পরপরই প্রকাশ করেন মোবারক। তারা হচ্ছেন থানাকান্দি হাতবাড়ি গ্রামের সিরাজের ছেলে খোকন, হাজিরহাটি গ্রামের মাঈনুদ্দিনের ছেলে রুমান, ,জিল্লুরের ছেলে শাহিন ও মালির ছেলে জাবেদ। পা কেটে নেয়ার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনায় জড়িত এই ক’জনের নাম প্রকাশ করে নিহত মোবারক। বাকীদের সে চিনতে পারেনি বলে জানায়। তার এই বক্তব্য কেউ মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করে ফেইসবুকে ছেরে দেয়।
এ সংঘর্ষের ঘটনার ছয় দিন পর ১৭ এপ্রিল শুক্রবার রাতে নিহতের চাচাতো ভাই চাঁন মিয়া বাদী হয়ে ১৫২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।দায়ের হওয়া এ হত্যা মামলায় পার্শ্ববর্তী বীরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির আহমেদকে ‘প্রধান আসামি’ করা হলেও আলোচিত এ মামলায় বিবাদমান দুই গ্রুপের একটি গ্রুপের দলনেতা কাউছার মোল্লাকে করা হয়েছে ২ নম্বর আসামি । এ ছাড়া স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু কাউছারকেও এ মামলায় ৩ নম্বর আসামি দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনাম আরো ১৫০ জনকে মামলায় আসামি দেখানো হয়।বর্তমানে মামলার পর থেকে অজইরা গ্রুপের লোকজন পলাতক রয়েছে। এ সুযোগে তাদের প্রতিপক্ষ সরকার বাড়ির গোষ্টির লোকজন এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে লোটপাট চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

গত ২ মে সরজমিনে থানাকান্দি গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, এলাকায় অবস্থানরত পুলিশদের অগোচরে সুযোগ পেলেই সরকার বাড়ির লোকজন এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে লুটপাট শুরু করে। বাড়িতে থাকা টাকা- পয়সা,স্বর্ণলঙ্কার,আসবাবপত্র,মোবাইল ফোন,ধান-চাউল,কারো গোয়াল থেকে গরু-ছাগল ও হাস-মুরগি নিয়ে যায় তারা। লোটপাট করার সময় বাধাঁ দিলে শারীরিক লাঞ্ছনা সহ বাড়িতে থাকা নারীদের ধর্ষনের হুমকিও দেওয়া হয়। এছাড়াও এলাকার বেশকিছু নারীকে শারিরিক লাঞ্ছনা করা হয় বলে জানান ভুক্তভুগী নারীরা । এসব ঘটনায় ওই এলাকার নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এছাড়াও থানাকান্দি গ্রামের বহু বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের দৃশ্যও দেখা গেছে।
জানা যায়, থানাকান্দি গ্রামে দাঙ্গাবাজরা মোবারকের বাম পা গোড়ালীর ওপরের অংশ থেকে কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে। এরপর কাটা পা হাতে নিয়ে আনন্দ মিছিল করে। এসময় ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দেয় দাঙ্গায় জড়িত এই নরপশুরা। পরিবারের লোকজন জানান- তার ডান পা-ও কুপিয়ে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়। ১২ এপ্রিল রোববার সংগঠিত লোমহর্ষক মিছিলে কাটা পা ছিলো গৌরনগর গ্রামের খলিল মিয়ার ছেলে আনোয়ারের হাতে। স্থানীয়রা জানিয়েছে সে সিলেটে কাপড়ের ব্যবসা করে। করোনা পরিস্থিতির কারনে বাড়িতে এসেছিলো সে।

পুলিশ জানায়,এ সংঘর্ষের নেতৃত্ব দানকারি প্রধান দুই আসামি সরকার বাড়ির গোষ্টির প্রধান ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান ও আজইরা বাড়ীর গোষ্টির প্রধান কাউছার মোল্লা সহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাশুকুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে তারা। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।
নবীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. রুহুল আমিন জানান, সংঘর্ষের ঘটনার পর ওই এলাকাগুলিতে তিনটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প করা হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত ৭৭ জন আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।