Main Menu

নবীনগরে ঐতিহ্যবাহী জমিদারের দিঘী ভরাট বন্ধ করলেন ইউএনও

+100%-

মিঠু সূত্রধর পলাশ,নবীনগর প্রতিনিধি::: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার ভোলাচং গ্রামের জমিদারের ঐতিহ্যবাহী দিঘীটি ভরাট বন্ধ করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির ফরহাদ শামীম।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে, নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির ফরহাদ শামীম ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহামুদা জাহান সরজমিনে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী দিঘীটি ভরাটের হাত থেকে রক্ষা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্দনে, নবীনগর সদর বাজারের স্বর্ন ব্যবসায়ী সমর দাস স্বল্প মূল্যে ভোলাচং গ্রামের জমিদার প্রয়াত মলিন্দ্র রায় ওরফে কেটু বাবুর কাছ থেকে দিঘীটি নামাত্র মূলে ক্রয় করেন। দিঘীটি ক্রয় করার পর একাধিকবার বালু দিয়ে ভরাট করতে চেষ্টা করেন সমর দাস গংরা।

স্থানীয়রা আরো জানান, নবীনগর সদর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায় সমর দাস এলাকার সাধারণ মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে বর্তমানে পালাতক রয়েছে। সমর দাসের অনুপস্থিতিতে তার ভাতিজা সুমন দাস দিঘীটি ভরাট করতে এলাকার প্রভাবশালীদের মোটা অংঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পুনরায় দীর্ঘি ভরাট করতে ড্রেজারের পাইপ বসিয়েছে। এলাকাবাসী জানান, এর আগেও গত কয়েক বছর আগে সমর দাস এই দিঘীটি ভরাট করতে চেয়েছিলো, কিন্তু এলাকাবাসীর তোপের মুখে ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সে ভরাট পক্রিয়া বন্ধ হয়। এলাকাবাসী জানান, প্রায় ১০ বিঘার উপর দিঘীটি ভরাট হলে এলাকার শতশত পরিবার পানিবন্দি হয়ে যাবে। এছাড়াও দিঘীটির পানি ব্যবহার থেকেও মানুষ বঞ্চিত হবে।

অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সমর দাসের ভাতিজা সুমন দাস জানান, দিঘীটি আমরা এলাকার জমিদার মনিন্দ্র রায় ওরফে কেটু বাবুর কাছ থেকে ক্রয় করেছি। বর্তমানে দিঘীটি অধিকাংশ জায়গায়ই ভরাট হয়ে আছে। দিঘীটির পাশে অনেক বহুতর ভবন হয়েছে, তারাও চাচ্ছে এটি ভরাট করতে। দিঘীটি ভরাটের বিষয়ে কথা বলতে আমরা এমপি (এমপি এবাদুল করিম বুলবুল) সাহেবের বাড়িতে আসছি।
এ বিষয়ে নবীনগর পৌরসভার মেয়র এডভোকেট শিব শংকর দাস বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে দীঘি ভরাট সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের অন্যায়কে কখনোই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। জনকল্যানে দীঘিটি আবারো খনন করা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির ফরহাদ শামীম জানান, ভোলাচং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী দিঘীটি ভরাট বন্ধ করা হয়েছে।